কোর্টফের পৃথিবী
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন ওই ঘটনায় জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (৪র্থ) আদালত সোমবার অভিযুক্ত মহির উদ্দিন ওরফে মহরকে (৪৩) মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। রায়কে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক আলমগীর আল মামুন।
আদালতে রায় ঘোষণার সময় উপজেলার ওই মামলার একমাত্র আসামি মহির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। আদালতে পেশ করা অভিযোগপত্র, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক নিয়ামক দেখে আদালত এ রায় দেন।
“গাজীপুরে পাঁচ বছরের এক শিশুকে বলাৎকার করতে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মহির উদ্দিন ওরফে মহরকে (৪৩) এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।”
ঘটনার পটভূমি ও তদন্ত
পুলিশ ও প্রসিকিউশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিশুটির নাম মুসা আহম্মেদ রাফি, বয়স কাছাকাছি পাঁচ বছর। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছোট মুসা নিজ বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের লোকজন অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশকে জানান।
নিখোঁজ হওয়ার একই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহযোগিতায় কালামপুর এলাকার সোহাগপল্লীর উত্তর পাশে একটি সীমানাপ্রাচীরের ভেতর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে গলার কাছে ব্যবহৃত বেল্ট বাঁধা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে আদালতে উল্লিখিত হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
আইনি কার্যক্রম ও সাক্ষ্য
শিশুর বাবা মো. শামীম মীর ২৭ জুন ২০২৩ সালে কালিয়াকৈর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে একমাত্র আসামি মহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ধারা ৩০২ (হত্যা) ও ২০১ (প্রমাণ লোপাট বা বিনষ্টকরণ) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।
অতিদিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আরিফুর রহমান রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় ছিলেন; রাষ্ট্রপক্ষের মোট ৯ জন সাক্ষী আদালতে বক্তব্য প্রদান করেছেন। দাঁড় করানো প্রমাণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের আলোকে আদালত আসামির বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত বলে রায় দেন। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তমিজ উদ্দিন।
- নিখোঁজের তারিখ: ২৬ জুন ২০২৩
- মামলা দায়ের: ২৭ জুন ২০২৩, কালিয়াকৈর থানা
- আদালত: গাজীপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (৪র্থ), বিচারক আলমগীর আল মামুন
- রায়: মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
কালিয়াকৈরের বাস্তুতন্ত্রে এমন নির্মমতা ঘটায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। ছোট শিশুর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড সমাজে নিরাপত্তার জোরালো প্রশ্ন তোলে। এমন ঘটনায় পরিবারে অপূরণীয় শূন্যতা ও মানসিক ক্ষত তৈরি হয়েছে—বিশেষত নিহত শিশুর মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজনের জন্য।
আদালতির রায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে আবারও সতর্ক করেছে—শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মামলার দ্রুত তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিত হওয়ায় কিছুটা প্রশমন দেখা গেলেও সমাজে বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা অপরিহার্য বলে মনে করছেন আইনজীবী ও স্থানীয় বেশ কয়েকজন অভিভাবক।
আদালতের রায়ের পরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও রায় কার্যকর করার বিষয়টি আইনি ধাপ অনুসারে পরিচালিত হবে। গাজীপুরের আইনজীবী ও পুলিশের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তর এই প্রকার একঘাত ঘটনার পাটলগুলি তুলে ধরার ও পুনরাবৃত্তি রোধে কাজ করতে বাধ্য—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
এই ঘটনায় আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও প্রাসিকিউশনের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে; প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার কথা আদালতে বলা হবে।