গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার কালামপুর উত্তরপাড়া অঞ্চল থেকে নিখোঁজ হওয়া পাঁচ বছরের শিশু মুসা হত্যার মামলায় আদালত একাধিক সাক্ষ্য-প্রমাণের পর অভিযুক্ত মহির উদ্দিন ওরফে মহর-কে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। রায়টি গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আলমগীর আল মামুন ঘোষণা করেন।
ঘটনার সারসংক্ষেপ ও মামলার পথচলা
নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে বাসার সামনে খেলতে বেরিয়ে শিশুটির গায়েবী ঘটে। পরিবারের খোঁজাখুঁজি করা সত্ত্বেও সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়রা ও পুলিশ একত্রে অভিযান চালিয়ে কালামপুর এলাকার সীমানাপ্রাচীরের ভেতর থেকে মুসার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শরীরে ও মাথায় গুরুতর আঘাত ও গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন পাওয়া যায়।
- নিহত শিশুর নাম: মুসা আহম্মেদ রাফি (প্রতি প্রতিবেদন অনুযায়ী)
- নিখোঁজের তারিখ: ২৬ জুন ২০২৩
- মামলায় বাদী: শিশুর পিতা মো. শামীম মীর
- আরোপিত ও দণ্ডপ্রাপ্ত: মহির উদ্দিন (উরফে মহর)
আদালতে মামলা-বিবরণ ও প্রমাণ
পুলিশ তদন্ত শেষে একমাত্র আসামি মহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মৃত্যু ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে কয়েকজন, ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি বিচার প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হয়। বিচারক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর দোষী প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং রায় ঘোষণার সময় তিনিও উপস্থিত ছিলেন।
“অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত মৃত্যুদণ্ড ও অর্থপূরণ নির্ধারণ করেন,”
উল্লেখ্য, মামলায় তদন্তকারী সংস্থার প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট শিশু হত্যার গুরুতরতা ও লক্ষণগুলো নিশ্চিত করে বলে সূত্রে জানা যায়। স্থানীয় আইনজীবী সমিতির এক প্রতিনিধি ইস্যুটি নিয়ে পদক্ষেপ ও সময়মতো বিচারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক প্রভাব
কাউমত ও প্রতিবেশীর মধ্যে অস্থিরতা দেখা যায়—একদিকে শোক, অন্যদিকে ক্ষোভ। প্রায়শই এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় সুরক্ষা, শিশুদের নিরাপত্তা ও পরিবারের মানসিক ক্ষত নিয়ে দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া ফেলে। সন্তানকে হারানো পরিবারের সহমর্মিতা এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক ও প্রশাসনিক স্তরে কড়কড়ে পদক্ষেপের দাবি উত্থাপিত হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে, এমন ঘটনায় এলাকাবাসী প্রহরায় আরও সচেতন হবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে যাতে আগামীতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ত্রুটি থাকলে তার দ্রুত শোধরানোরও আহ্বান করা হচ্ছে।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২৬ জুন ২০২৩ | শিশু নিখোঁজ হওয়া |
| ২৬ জুন ২০২৩ (সন্ধ্যা) | শিশুর লাশ উদ্ধার |
| ২৭ জুন ২০২৩ | বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের |
| রায় ঘোষণার দিন | আদালত মৃত্যুদণ্ড ও জরিমানা দেন |
আদালত কর্তৃপক্ষ এই রায়ের প্রেক্ষিতে আইনগত প্রক্রিয়া ও আপিলের পথ সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া সামাজিকভাবে শান্তি ও আইনের প্রতি আস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
এই মামলায় অন্য কোনো নতুন তথ্য oficiales ভাবে না আসা পর্যন্ত তদন্তের তথ্য ও আদালত ঘোষিত রায়ই জনগণের সামনে মুল প্রমাণ হিসেবে থাকবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজবক্তারা শিশুদের নিরাপত্তা বিধানে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
প্রতিবেদন: শাহনাজ পারভীন, গাজীপুর প্রতিনিধি, WE NEWS