গাজীপুর—সোমবার দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ইটাহাটা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পারাপারে এক নারী পোশাক শ্রমিক বাসচাপায় নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম জানা গেছে মরিয়ম বেগম (৫০)। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা ও তাঁর সহকর্মীরা বিক্ষোভ করে, আর একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা তাকওয়া পরিবহনের অন্য একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মরিয়ম তার কর্মস্থল দিগন্ত সোয়েটার কারখানায় যাওয়ার সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক উত্তরণকালে তাকওয়া পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে উগ্র অবস্থায় ছবি হওয়ায় তাকে ঢাকার হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু ঘটে।নিহত মরিয়ম আশুলিয়ার ওসমান আলীর মেয়ে এবং দীর্ঘদিন ধরে দিগন্ত সোয়েটার কারখানায় কাজ করতেন। ঘটনার সংবাদ পৌঁছালে একই কারখানার শ্রমিকরা ও স্থানীয় জনতা মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং বিক্ষোভ করতে থাকে। অভিযোগ আছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন।
বিক্ষোভ, আগুন ও যানচলাচল ব্যাহত
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করছিলেন। এক পর্যায়ে তারা তাকওয়া পরিবহনের আরেকটি বাসে আগুন দেয়; বাসটির ভেতরের অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট পৌঁছে প্রায় আধ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
- সময়: সোমবার দুপুর আনুমানিক ২টা
- স্থান: গাজীপুর সিটি করপোরেশন, ইটাহাটা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
- নিষ্পত্তি: আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাস সরিয়ে নেওয়ার পরে দুপুর আড়াইটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়
পুলিশের অবস্থান ও আইনগত ব্যবস্থা
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ ঘটনাটি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, "তাকওয়া পরিবহনের বাসের চাপায় এক নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের সহকর্মীরা একটি বাসে আগুন দেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
"তাকওয়া পরিবহনের বাসের চাপায় এক নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন... এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ওসি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং গাড়ি চালককে শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা চেষ্টা চলছে। এছাড়া বিক্ষোভে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় প্রভাব ও শ্রমিকদের উদ্বেগ
মরিয়মের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে একই কারখানার অসংখ্য শ্রমিক ক্ষোভে মুখরিত হন। স্থানীয় সক্রিয়রা বলেন, ওই সময়কার রাস্তা পারাপারে যানজট ও সিগন্যালের অভাব ছিল, যা পথচারী ও শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকি বাড়ায়। শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, সকালে কাজাখাতে যাওয়ার সময় পারাপারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, দ্রুত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও রাস্তায় পারাপার সুবিধা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, নিহতের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ দ্রুত প্রদান করা হোক।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত | মরিয়ম বেগম, ৫০ |
| কর্মস্থল | দিগন্ত সোয়েটার কারখানা |
| ঘটনার স্থান ও সময় | ইটাহাটা, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক — সোমবার দুপুর ~২টা |
| প্রতিক্রিয়া | একটি বাসে আগুন, অর্ধ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণ, যানচলাচল সাময়িক বন্ধ |
পাঠকজিজ্ঞাসা: আপনি কী করবেন যদি রাস্তায় দুর্ঘটনা দেখতে পান?
যেকোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো ও আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করানো জরুরি। পুলিশের সাথে যোগাযোগ (১০০), ফায়ার সার্ভিস (১০১), এবং জরুরি অ্যাম্বুল্যান্স সরবরাহকারী স্থানীয় যোগাযোগ নম্বর জানা থাকলে তা কাজে লাগান। পথচারীদের অনুরোধ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রেখে আহতকে সাহায্য করুন এবং সৃত্তিক ঘটনার স্থল মাতৃক—যাতে পরবর্তী যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
এই ঘটনায় প্রশাসন ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, তা তদন্ত শেষে জানা যাবে। পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
রিপোর্ট: শাহনাজ পারভীন, গাজীপুর প্রতিনিধি