গাজীপুরের শ্রীপুরে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে একটি পুকুর থেকে নিলুফা আক্তার (২৬) নামের এক গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নিলুফার স্বামী ইমন হোসেন-কে ঘটনাস্থল থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ নিরূপণ করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশি তদন্ত প্রয়োজন।
পরিবারের অনিশ্চয়তা ও স্থানীয়দের উদ্বেগ
নিলুফার মারা যাওয়ার পর তার আড়াই বছরের কন্যা ইশা সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন। শিশুটির মা মারা গেছেন, আর বাবা পুলিশ হেফাজতে থাকায় তার দেখভাল ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মৃতার বৃদ্ধ দাদি বর্তমানে মানুষের বাসায় কাজ করে সংসার চালান—পরিবারের সদস্যরা বলছেন, একই সময় পুত্রবধূর মৃত্যু ও পুত্রের অনিশ্চিত অবস্থার কারণে তারা মানসিক ও বসতসংক্রান্ত সমস্যায় পতিত হয়েছেন।
পুলিশ তদন্ত চলছে
শ্রীপুর থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণ ধনুয়া এলাকা থেকে স্থানীয়রা পুকুরে একজন মহিলার মরদেহ ভাসমান দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক শনাক্তকরণে নিহতের নাম ঘোষিত হয়েছে নিলুফা আক্তার (২৬)। ঘটনার দিকে সন্দেহজনকভাবে যাওয়া-আসা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশের হাতে স্বামীকে রাখা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ড না অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
“নিলুফা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং এ ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।”
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম উপরের ভাষ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের ওপরেই পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে।
স্থানীয়দের দাবি ও সহায়তার আহ্বান
নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা আরও সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হলে দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে এলাকার প্রতি সমাজ-সংস্থাসমূহ ও দায়িত্বশীলদের কাছে অনুরোধ করা হচ্ছে—নিখোঁজ শিশুটি যাতে দ্রুত নিরাপদে রাখা যায় এবং তার অপূরণীয় ক্ষতির পরবর্তী সুরক্ষা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়।
- ঘটনার সময়: শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে মৃতদেহ উদ্ধার।
- নিহত: নিলুফা আক্তার, বয়স ২৬ বছর।
- হেফাজতে: স্বামী ইমন হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, নিলুফা ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান গরিব শ্রেণীর মধ্যে। মৃতার দাদি বাড়ির কাজে মজুরিতে জীবিকা নির্বাহ করেন—এ অবস্থায় পরিবারের এখন সবচেয়ে কাছের প্রয়োজন হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিক তদন্ত ও সমাজ থেকে সামাজিক সহায়তা।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | নিলুফা আক্তার |
| বয়স | ২৬ বছর |
| স্থান | দক্ষিণ ধনুয়া, শ্রীপুর, গাজীপুর |
| বর্তমান অবস্থা | মরদেহ উদ্ধার; স্বামী হেফাজতে; ময়নাতদন্ত ও তদন্ত চলছে |
নিলুফার মৃত্যুকে ঘিরে এখন রাজধানী না স্থানীয় হাসপাতালের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট কী বলবে, সেটিই সিদ্ধান্ত দেবে এই ঘটনার প্রকৃত স্বরূপ। তদন্ত না শেষ হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কেউই হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো কারণ চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করছে না—তবে এলাকাবাসী দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের ওপর চাপ তৈরি করছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজ-সংগঠন এবং জমিদারীনদের কাছে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য এগিয়ে আসার আবেদন জানানো হচ্ছে। পুলিশ তাদের সহযোগিতাও চেয়েছে।
ঘটনাস্থল ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা মৌলিক তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট করা হয়েছে; পরবর্তী ময়নাতদন্ত ও অফিসিয়াল তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আমরা পাঠকদের আরো বিস্তারিত জানাব।
শাহনাজ পারভীন, গাজীপুর প্রতিনিধি
WE NEWS