নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সমাসপাড়া গ্রামে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১২ বছরের এক ছাত্রীকে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন কর্তৃপক্ষ থামিয়ে দিয়েছে। বাল্যবিবাহের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ওই ঘটনায় জড়িত তিন জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং বর-পক্ষ ও কনের বাবা-মার ওপর অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।
ঘটনা ও প্রশাসনের তৎপরতা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সমাসপাড়া গ্রামে বাল্যবিবাহ আয়োজন হওয়ায় বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। কর্তৃপক্ষ বিয়ে বিলম্বিত হওয়ার পরও বর ও কনের পক্ষ না আসায় বর-কনেসহ অংশগ্রহণকারীদের আটক করে।
প্রতিবৃতি অনুযায়ী, বরের গাড়িটি আটক করার সময় প্রায় ২৫-৩০ জন লোক দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে হামলা ও গাড়িটি ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য, পেশকার ও গ্রাম পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা এবং সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
মামলা ও শাস্তি
প্রাথমিকভাবে তিন জনকে আটক করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আদালতের জরিমানা ও দণ্ডাদেশের বিবরণ অনুযায়ী:
- মান্নান শেখকে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
- মো. রাব্বি শেখকে ৬ মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
- মো. মাহাতাব আলীকে ১ মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সেখানে আরও নিশ্চিত করা হয়, বরের বাবা মো. ইয়ানুস শেখ ও কনের বাবা জুয়েলকে প্রতিবারেই ২০,০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহে জড়িত না হওয়ার মুচলেকা নেওয়া হয়।
| অভিযুক্ত | অভিযোগ/অপরাধ | শাস্তি/জরিমানা |
|---|---|---|
| মান্নান শেখ | সরকারি কাজে বাধা ও ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা | ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড |
| মো. রাব্বি শেখ | সরকারি কাজে বাধা ও হামলার চেষ্টা | ৬ মাস কারাদণ্ড |
| মো. মাহাতাব আলী | সরকারি কাজে বাধা | ১ মাস কারাদণ্ড |
| বরের বাবা মো. ইয়ানুস শেখ | বাল্যবিবাহ আয়োজন | ২০,০০০ টাকা জরিমানা |
| কনের বাবা জুয়েল | বাল্যবিবাহ আয়োজন | ২০,০০০ টাকা জরিমানা |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়রা জানান, বাল্যবিবাহ রোধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কার্যকর হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের পরিবারের কিছু লোক ঘটনা নাকি অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে—এ কারণে মোবাইল কোর্ট ও পুলিশ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।
উপজেলা প্রশাসন আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করায় বেশি বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো গেছে। কর্তৃপক্ষ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আরও সচেতনতা ও গ্রামীণ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে।
পাঠকের জন্য প্রযোজ্য তথ্য
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুসারে বাল্যবিবাহ আয়োজন, সম্পাদন বা সহায়তা করার ক্ষেত্রে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। স্থানীয় কেউ এই ধরনের কোনো আয়োজন দেখতে পেলে অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসন বা নিকটস্থ থানায় জানানোর উপদেশ প্রদান করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় থানায় আটক ও আরও প্রাসঙ্গিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। তদন্ত চলছে এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য সংস্থার সহায়তা নিয়ে ভবিষ্যতে শিশুর কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রিপোর্টার: নওগাঁ থেকে