শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইলের মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য মিলে টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে রংপুর জেলার মেয়েদের নির্ধারিত তিনটি শটই জালে গলে যায় এবং টাঙ্গাইল কোনো গোল করতে পারে না। ফলাফল—টাইব্রেকারে ৩-০ ব্যবধান উন্নয়নে রংপুর চ্যাম্পিয়ন। এই জয়ের ফলে রংপুর অনূর্ধ্ব-১৪ প্রমিলা দল জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ওমেন্স ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ছয়বারের শিরোপাধারী (হেক্সা) হলো।
ম্যাচের সংক্ষেপ ও খেলোয়াড়দের ভূমিকাঃ
ফাইনালে ম্যাচ শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে অংশ নিলেও সাধারণ সময়ের ৯০ মিনিট শেষে কোনো গোল হয়নি। আবহাওয়া অনুকূল না হওয়ায় অতিরিক্ত সময় হয়নি, সরাসরি টাইব্রেকারে শিরোপার সিদ্ধান্ত হয়। টাইব্রেকারে রংপুরের গোলরক্ষক সুমাইয়া এর অসাধারণ পারফরম্যান্স দলের জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে রইল। তিনি ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিকবার প্রতিরোধ গড়ে দেন এবং টাইব্রেকারে প্রতিপক্ষের শট আটকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
- ফাইনাল ফলাফল: টাইব্রেকারে রংপুর ৩–০ টাঙ্গাইল
- ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় ও সেরা গোলরক্ষক: সুমাইয়া (রংপুর)
- টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা: অনন্যা (রংপুর) — মোট ৬টি গোল
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
ফাইনালের শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহাফুজা আক্তার কিরন এবং টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে ফাইনাল দেখতে গেছেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
রংপুর দলের অধিনায়ক অনন্যা খানম বলেন, “দলের সবাই দারুণ খেলেছে। রংপুর থেকে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা এসেছিলাম; চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরে যেতে পেরে সবাই খুবই আনন্দিত।”
টুর্নামেন্ট শেষে আরও দুই অনন্য স্বীকৃতি দেয়া হয়—টাঙ্গাইল দলের মিম নির্বাচিত হন সেরা খেলোয়াড় হিসেবে এবং রাঙ্গামাটির থুইকারিমা মারমা পেয়েছেন সেরা মূল্যবান খেলোয়াড়ের পুরস্কার।
রংপুরের ক্রীড়া ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
রংপুর জেলার বালিকা দলের এ জয় দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার ফল। এর আগেও রংপুর ২০১৪, ২০১৬, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৫ সালে মোট পাঁচবার জেতার পর এবার ষষ্ঠবার শিরোপা ধরে রেখেছে—ফেডারেশনের অনূর্ধ্ব-১৪ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় রংপুরের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় হলো। এই ধারাবাহিকতা স্থানীয়ভাবে মেয়েদের ক্রীড়া উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় ক্লাব-অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি উৎসাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
দলের কোচ রুমা আক্তার জানান, পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারও লক্ষ্য ছিল হেক্সা অর্জন। এ লক্ষ্যে কৌশলগতভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা। অধিনায়ক অনন্যার নেতৃত্ব এবং সুমাইয়ার প্রতিরক্ষা রংপুরকে সফল করেছে—যা ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় আরও বড় মঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার পথ খুলে দেবে।
| বছর | অর্জিত শিরোপা |
|---|---|
| ২০১৪ | চ্যাম্পিয়ন |
| ২০১৬ | চ্যাম্পিয়ন |
| ২০১৯ | চ্যাম্পিয়ন |
| ২০২১ | চ্যাম্পিয়ন |
| ২০২৫ | চ্যাম্পিয়ন |
| ২০২৬ | চ্যাম্পিয়ন (হেক্সা) |
ফাইনালে রংপুরের অধুনা প্রাপ্তি কেবল একটি ট্রফি নয়—এটি রংপুরে মেয়েদের ক্রীড়ার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, স্থানীয় সমর্থন ও প্রতিভা বিকাশের পরিচায়ক। স্থানীয় ক্লাব, কোচ ও অভিভাবকদের আরও সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে রংপুর থেকে আরও উচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সফল খেলোয়াড় উদ্ভূত হবে বলে ক্রীড়া মহলে আশা করা হচ্ছে।
রংপুরের এই ক্রীড়া সাফল্য স্থানীয় তরুণ ক্রীড়াবিদদের মধ্যে উৎসাহ জাগাবে এবং স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে অনুপ্রাণিত করবে—যা দীর্ঘমেয়াদিভাবে অঞ্চলের ক্রীড়া উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।