বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাম্যাচিংকে নিয়ে রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে জেলা শহরের মুক্তমঞ্চ ঘিরে গণসংবর্ধনার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান হয়। আনন্দ মিছিল থেকে শুরু করে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো পর্যন্ত সমবেত জনতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
মিছিল থেকে মুক্তমঞ্চ—উৎসবমুখর পরিবেশ
সংবর্ধনা উপলক্ষে জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আনন্দ মিছিলটি মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। মিছিল ও সংবর্ধনায় অংশ নেন নারী-পুরুষ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। বান্দরবান জেলা সদরসহ উপজেলা থেকে আগত দলসমূহ ফুলে-ফল দিয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিরোধী ও সমর্থক দলের নেতৃবৃন্দ। আবহমান আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছিল এবং স্থানীয় মানুষজন সেটিকে উৎসবের মতো গ্রহণ করেন।
কাউকে বাদ না রেখে উন্নয়ন ও সম্প্রীতি
সংবর্ধনায় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা। তারা আশা জাহির করেন যে, নতুন পরিষদ জেলা নিয়ে কাজ করবে—বিশেষ করে শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষা ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে। বক্তারা বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ যদি সঠিকভাবে কাজ করে, তাহলে পাহাড়ি ও সমতল এলাকার মানুষ উন্নয়নের সুফল পাবে।
“সার্বিক উন্নয়ন, পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা আমার মূল লক্ষ্য ও অঙ্গীকার,”
এই প্রতিশ্রুতিটি নিজেই প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল। মাম্যাচিং অনুষ্ঠানে বলেন, পাহাড়ে বসবাসরত সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা ও শান্তি রক্ষায় তিনি কাজ করবেন। এছাড়া পরিষদের সব সেবা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে পৌঁছে দেয়াও তার অঙ্গীকার।
কুশীলব ও দলের প্রতিনিধিত্ব
সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. জাবেদ রেজা প্রথমে ফুল দিয়ে চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা জানান। এছাড়া নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্যরা—চনুমং, লুসাই মং, জসিম উদ্দীন তুষার প্রমুখ—চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করেন।
- অনুষ্ঠানের স্থান: বান্দরবান মুক্তমঞ্চ
- তারিখ ও সময়: ২৩ আগস্ট, বিকাল
- প্রধান অভিব্যক্তি: শান্তি, সম্প্রদায়িক সমন্বয় ও টেকসই উন্নয়ন
সরকারি পুনর্গঠন ও সদস্যসংযোজন
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট সরকার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদকে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ হিসেবে পুনর্গঠন করে এবং মাম্যাচিংকে চেয়ারম্যান করে মোট ১৫ জন সদস্যের একটি পরিষদ গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ পুনর্গঠনের ফলে জেলা পর্যায়ে পুনরায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে সুবিধা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| চেয়ারম্যান | মাম্যাচিং |
| সদস্যসংখ্যা | ১৫ (চেয়ারম্যানসহ) |
| ইভেন্ট | গণসংবর্ধনা ও আনন্দ মিছিল |
| তারিখ | ২৩ আগস্ট |
সংগঠিতভাবে বর্ণিত এই কার্যক্রমকে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁরা বলেন যে, যদি নতুন পরিষদ শান্তি বজায় রাখা ও উচ্চমানের পরিষেবা দেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করে, তাহলে এলাকায় স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব হবে।
আসন্ন দিনগুলোতে নতুন পরিষদের কার্যক্রম, জেলা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা প্রদানের বাস্তব অনুকরণের দিকে নজর রাখা হবে। বর্তমান সরকারি প্রজ্ঞাপনের পর থেকে যে পুনর্গঠন কার্যকর হয়েছে, তা জেলা পরিচালনা ও সমন্বয়ে কীভাবে প্রতিফলিত হবে—এটাই এখন লোকজনের দৃষ্টি ব্যবহার করবে।
রিপোর্ট: উম্মে হাবিবা, বান্দরবান প্রতিনিধি, WE NEWS