বান্দরবান জেলার লামায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে লামাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে পুনরায় স্বীকৃতি দেওয়া এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামা থেকে সদস্য না রাখার প্রতিবাদ উঠে আসে। এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় লামা প্রেস ক্লাব হলরুমে, আয়োজক ছিল লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটি।
সভ্যেতরা যা বললেন
সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ও সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এম রুহুল আমিন। সভায় অংশ নেন লোকজন শিল্প, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক নানা সংগঠনের প্রতিনিধিরা—যাদের মধ্যে ছিলেন এনজিও ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রেস ক্লাবের কর্মকর্তারা, প্রাক্তন শিক্ষক এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক নেতারা। তারা লামার ইতিহাস ও প্রশাসনিক স্থিতি সম্পর্কে অনুরূপ তথ্য তুলে ধরেন এবং দাবি জানিয়েছেন যে লামার পুরোনো স্মৃতিচিহ্ন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দেখা হলে লামাকে জেলা করার অধিকার সুস্পষ্ট হবে।
বক্তারা স্মরণ করিয়েছেন যে, ৯ অক্টোবর ১৯৭০-এ লামা মহকুমা ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে ১৯৮১ সালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা গঠনের সময় লামা মহকুমার প্রশাসনিক সীমানা জেলা গঠনের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ১৯৮২-৮৩ সালে মহকুমা ব্যবস্থা নির্মূল করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় ও লামা মাসে উপজেলা হিসেবে রূপান্তরিত হয়। এসব পরিবর্তনের ফলে লামার অঙ্গীভূত কিছু থানার কার্যক্রম স্থগিত বা পরিবর্তিত হয়।
স্থানীয় স্মৃতিচিহ্ন ও প্রশাসনিক পরিপ্রেক্ষিত
সভায় উপস্থাপিত দলিল ও স্মৃতিচিহ্নের কথা উল্লেখ করে বলা হয় যে, অতীতের নথি ও কিছু স্থাপনা লামার জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রমাণ স্বরূপ। উদাহরণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন লামা জেলা বোর্ড বিশ্রামাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন এবং লামা জেলা তথ্য অফিসে 'লামা জেলা' লেখা সাইনবোর্ড সহ অন্যান্য স্মৃতি। এছাড়া স্থানীয় প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের স্মৃতি থেকে জানা যায় যে ১৯৮৩-৮৪ সালের সময় বান্দরবানের তৎকালীন শাসকদের অনিচ্ছার ফলে লামাকে পুরোদমে জেলা করা হয়নি—যা পরে এলাকার উন্নয়নগত দিকেও প্রভাব ফেলে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, লামায় জেলা মর্যাদা ফিরে পেলে স্থানীয় নেতৃত্ব, অকেজো করা উন্নয়ন ও পরিকল্পনা পুনরায় সঠিকভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। তাদের যুক্তি—কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে জেলার স্বীকৃতি পেলে সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও সুসংগঠিত হবে।
অংশগ্রহণকারীদের নাম ও প্রতিনিধিত্ব
- এম রুহুল আমিন (কমিটির আহ্বায়ক)
- এনজিও নেত্রী আনোয়ারা বেগম
- লামা প্রেস ক্লাব সভাপতি প্রিয়দর্শী বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান
- বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা—প্রাক্তন শিক্ষক, আইনজীবী ও ধর্মীয় নেতারা
- প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ও ছাত্র-সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা
সভায় উল্লেখিত অংশগ্রহণকারীর তালিকা থেকে বোঝা যায় এটি একটি ব্যাপক স্থানীয় আন্দোলন নয়; বরং বিভিন্ন পেশাজীবী ও সংগঠনের সমন্বিত কাঠামো তৈরি করার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসমূহের সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
| বছর | প্রাসঙ্গিক ঘটনা |
|---|---|
| ১৯৭০ | ১ সেপ্টেম্বর—লামা মহকুমা হয় (উল্লেখিত: ৯ অক্টোবর ১৯৭০) |
| ১৯৭৭ | মে ২৭—পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক লামা জেলা বোর্ড বিশ্রামাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন |
| ১৯৮১ | বান্দরবান পার্বত্য জেলা গঠিত হলে লামা মহকুমা তার প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত |
| ১৯৮২-৮৩ | মহকুমা ব্যবস্থা বিলুপ্ত; লামা উপজেলায় রূপান্তরিত এবং কিছু থানা স্থগিত |
| ১৯৮৪ | কিছু মহকুমার জেলা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা |
কী পদক্ষেপের আহ্বান করা হলো
লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটি এই বৈঠকের পর স্থানীয়ভাবে চাহিদা মেনে প্রশাসনিক স্তরে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করবে বলে সভায় ঘোষণা এসেছে। তারা স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জেলা ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবিগুলো পৌঁছে দিতে চাইছে এবং ঐতিহাসিক দলিলাদি সংরক্ষণ ও প্রচারের মাধ্যমে বিষয়টি প্রসারিত করার সুপারিশ করেছে।
স্থানীয় পর্যায়ে এই ধরণের আলোচনাই প্রাথমিক ধাক্কা হিসেবে কাজ করে—তবে প্রকৃত ফলপ্রসূতা নির্ভর করবে স্থানীয় নেতাদের সংগঠিত উদ্যোগ, প্রশাসনিক সংলাপ এবং উচ্চতর পর্যায়ে অপরিহার্য নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।
বান্দরবানের লামা থেকে উম্মে হাবিবা, WE NEWS।