বান্দরবান শহরের কাছে পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলে মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি দুই সপ্তাহব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। বান্দরবান ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে বিভিন্ন পাড়ার মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ও কাঠামো
প্রশিক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দুর্গম এলাকায় বাসিন্দাদের কাছে দ্রুততম সময়ে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্থানীয়ভাবে সক্ষম জনশক্তি গঠন করা। প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় দিকেই কাজ করা হয়েছে। সেশনগুলোতে অন্তর্ভুক্ত ছিল গর্ভাবস্থার ঝুঁকি ও বিপদচিহ্ন শনাক্তকরণ, প্রসবকালীন প্রাথমিক সহায়তা, নবজাতকের পরিচর্যা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর কৌশল, টিকাদান, সিপিআর প্রয়োগ, ক্যানুলা ব্যবহার, স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং ও পরিবার পরিকল্পনা।
প্রশিক্ষণ প্রদানকারী ও সমাপনী অনুষ্ঠান
প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বান্দরবান ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী, ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরফরাজসহ অন্যান্য সেনা ও চিকিৎসা কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা।
প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা বলেন, এই প্রশিক্ষণ তাদের বাড়ি-পাড়া ও গ্রামের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে সক্ষম করবে। তারা জানায় যে জ্ঞানটি হলে জরুরি অবস্থায় দ্রুত এবং সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে, যা প্রসূতি ও নবজাতকের জীবন রক্ষায় সহায়ক হবে।
- প্রশিক্ষণের সময়কাল: দুই সপ্তাহ
- অংশগ্রহণকারী: ১৯ জন প্রশিক্ষণার্থী
- আয়োজক: বান্দরবান ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতাল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু (সংক্ষিপ্ত টেবিল)
| বিষয় | মূল কার্যক্রম |
|---|---|
| গর্ভাবস্থার ঝুঁকি শনাক্তকরণ | ঝুঁকি চিহ্ন ও জরুরি রেফারাল |
| প্রসবকালীন সহায়তা | আরম্ভিক পরিচর্যা ও নিরাপদ প্রসবের নির্দেশনা |
| নবজাতকের পরিচর্যা | দুগ্ধায়ন, তাপবিধান ও সংক্রমণ প্রতিরোধ |
| জরুরি প্রক্রিয়া | সিপিআর, ক্যানুলা প্রয়োগ |
সেনাবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক ও যোগাযোগগত সমস্যার কারণে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত পৌঁছানো সবসময় সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে পাড়াভিত্তিক প্রশিক্ষিত জনবল থাকলে মা ও শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এতে পার্বত্য এলাকার স্বাস্থ্যচিত্রে স্বচ্ছতা আসবে।
স্থানীয় প্রভাব ও যাচাইকরণ
প্রশিক্ষণটি স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ—কারণ দুর্গম এলাকাগুলোতে সরকারি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সহায়তা ছাড়াও প্রাথমিক পর্যায়ে স্বল্প প্রশিক্ষিত লোকজনই প্রথম সাহায্য দিতে পারে। প্রশিক্ষণার্থীরা যদি সঠিকভাবে তাদের এলাকায় কাজ শুরু করেন, তবে তৎকালীন জরুরি অবস্থায় মৃত্যুহার ও জটিলতা কমাতে সহায়তা করা সম্ভব হবে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে মিলিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সেনাবাহিনী ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় স্তরে স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে—বিশেষত যেখানে ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা বেশি এবং তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা সেবার অভাব রয়েছে।
বান্দরবান থেকে উম্মে হাবিবা, WE NEWS রিপোর্টিং।