কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বীর বিরুদ্ধে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে সিইওর আবাসিক কক্ষে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানায় পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
অভিযোগ ও ঘটনার বিবরণ
ঘটনার বিবরণে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক রশিদকে বিল-ভাউচার ও নথিপত্র নিয়ে সিইও তাঁর আবাসিক কক্ষে তলব করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজ্জাক উপস্থিত হলে নথি দেখে তাকে গালিগালাজ করা হয়, শার্টের কলার ধরে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয় এবং ফাইল ছুড়ে মারেন সিইও। একই কক্ষে কিছুক্ষণ পর সিইও নাশতা আনতে গিয়ে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী আনারুল ইসলামকেও গালিগালাজ করে ও চড়-থাপ্পড় মারা হয় বলে অভিযুক্তরা জানিয়েছে।
কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া ও কর্মবিরতি
ঘটনার পর দুপুরে অভিযুক্ত কর্মচারীরা ঘটনাটি পৌরকর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের জানান। ওই সংগঠন দুপুর থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণাও করে। কর্মবিরতির ফলে পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে জন্মনিবন্ধন ও নাগরিক সনদ ইত্যাদি সেবায় ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে — সাধারণ জনগণ সেবাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক কী বললেন
ঘটনার পর জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ সিইও মো. ফজলে রাব্বীকে আগামী রোববারের মধ্যে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক সংবাদে বলেন, “এমন কর্মকর্তাকে কুড়িগ্রামে বহাল রাখার সুযোগ নেই।”
“এমন কর্মকর্তাকে কুড়িগ্রামে বহাল রাখার সুযোগ নেই।” — জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ
ভুক্তভোগীদের দাবি
ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক রশিদ বলেন, “সিইও আজকে আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। ঠুনকো অজুহাতে আমাদের পিটিয়েছেন। একজন কর্মকর্তা কখনোই অধীনস্থ কর্মচারীর গায়ে হাত দিতে পারেন না। আমরা তাঁর সঠিক বিচার ও অপসারণ চাই।” পৌরকর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান বুলু অভিযোগ করে বলেন, সিইও পূর্বেও কর্মচারীদের উপর হাত তোলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন, আজকের ঘটনার ন্যায়সঙ্গত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে — যোগাযোগ চেষ্টা ব্যর্থ
অভিযোগের বিষয়ে সিইও মো. ফজলে রাব্বীর সঙ্গে যোগাযোগের বেশ কয়েকটি চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর পৌরসভার কার্যক্রম অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের সেবা প্রভাবিত হচ্ছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক ও সুশীল পরিবেশে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পৌরসভার একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ শিল্প-নাগরিক সেবা প্রদানে আস্থাহানি ঘটাতে পারে বলে মন্তব্য করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার সময়রেখা
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| বেলা ১১টা | সিইওর আবাসিক কক্ষে প্রথম অভিযুক্তকে তলব ও মারধরের ঘটনা ঘটে |
| দুপুর ১২টা | অভিযোগ জানানো হয়; কর্মচারীরা জরুরি সভা ডেকে কর্মবিরতি ঘোষণ করে |
| ঘোষণা | জেলা প্রশাসক সিইওকে রোববারের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেন |
হালনাগাদ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনাটি প্রশাসনিক নিয়ম অনুসারে তদন্ত করা হবে এবং জেলা প্রশাসক নির্দেশনা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারিত হবে। ততদিন পৌরসভার স্থায়ী ও জনসাধারণের সেবা শাখাগুলোর উপর ভিত্তিক চাপ তৈরি হতে পারে — বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন-নাগরিক সনদ সংক্রান্ত কার্যক্রমে।
- পৌরকর্মচারীদের দাবিঃ সিইওর অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
- প্রশাসনের নির্দেশঃ রোববারের মধ্যে অপসারণের ঘোষণা
- জনপ্রতিবাদঃ কর্মবিরতির ফলে সাধারণ মানুষের সেবা বিঘ্নিত
প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত সিইওর অফিস থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হবে।