নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে পরে রাজধানীতে অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশের সন্দেহ থাকা জুয়েল ভূঁইয়া ওরফে ওস্তাদকে ডেমরার সারুলিয়া পশ্চিম নিঝুমবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। অভিযান শেষে তার কাছ থেকে দুটি হাতে তৈরি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান ও বোমা উদ্ধার
ডিএমপির ডেমরা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহসিন মাসুদ জানান, জুয়েল সম্পর্কে তথ্য পেয়ে ডিএমপি ও এটিইউ যৌথভাবে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে জুয়েল গ্রেফতার হলে তার কাছ থেকে দুটি বোমা পাওয়া যায়। পরে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম ওই বোমা নিষ্ক্রিয় করে। পুলিশ আরও একটি ব্যক্তিকে আটক করেছে বলে জানানো হয়েছে।
গ্রেফতারের প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জুয়েল নব্য জেএমবির প্রসিদ্ধ বোমার কারিগর নাজমুল হাসান মামুন ওরফে বোমারু মামুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। নরসিংদী কারাগারে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সংঘটিত দাঙ্গার যে ঘটনায় কারাগার ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে অনেক কয়েদি পালিয়েছে, তাতে জুয়েলও তালিকাভুক্ত ছিলেন। ওই ঘটনায় সেল ভাঙাচোড়া ও কারাগারের অস্ত্রাগার থেকে বহু অস্ত্র ও গুলিসহ কয়েদিদের পলায়ন ঘটে। নরসিংদী জেলা পুলিশের তৎপরতায় ২৫ জুলাই তাকে ধরে ফেরাটাও ঘটেছিল, কিন্তু পরে জামিনে বেরিয়ে আসার তথ্যও পুলিশ সূত্রে পাওয়া গেছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতা ও তদন্ত
পুলিশ জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এবং পুলিশের ওপর হামলার তদন্তের প্রেক্ষিতে ডেমরার ওই ঠিকানায় নজরদারি চলছিল। তল্লাশি চালিয়ে ওই বাড়ি ও আশপাশ ঘিরে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি অংশ নেয় এবং তল্লাশির পর বোমা উদ্ধার হয়। তদন্তে জুড়ে রয়েছে গত কয়েকটি বিস্ফোরণ ও তল্লাশির ঘটনার ধারাবাহিকতা, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো হলো—
- ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি মাদরাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ।
- এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তল্লাশির সময় পুলিশের ওপর ছুরিকাঘাত এবং বোমা বহনের চেষ্টা।
- ২০২৬ সালের মার্চে কুমিল্লার শিব মন্দিরে বিস্ফোরণ ও একই মাসে সায়েদাবাদে তল্লাশির সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাসহ অন্যান্য হামলার অভিযোগ।
স্থানীয় নিরাপত্তা ও জনজীবনে প্রভাব
নরসিংদী জেলা কারাগার ভাঙার ঘটনায় যে পরিমাণ অস্ত্র ও কয়েদি পালিয়েছে—তার প্রভাব এখনো পুরোদমে শেষ হয়নি বলে স্বীকৃতি দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারাগারের ঘটনায় লুট হওয়া অস্ত্র ও কিছু পালানো সদস্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয়তা দেখিয়েছে—যার ধারাবাহিকতা থেকে জেনেরাল জনগণ উদ্বিগ্ন। ডিএমপি ও এটিইউ-র অভিযানের ফলে সরাসরি আরেকটি সম্ভাব্য হামলার প্রচেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ মনে করছে।
তদন্ত কেমন এগোবে
তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, জুয়েল ও তার সহযোগীদের মোবাইল, যোগাযোগধর্মী মাধ্যম, তার অবস্থানের ইতিহাস এবং কোথা থেকে বোমা পৌঁছেছে—এসব বিষয় জোরদারভাবে খতিয়ে দেখা হবে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও কাউকে দ্রুত গ্রেফতার করা হতে পারে। এছাড়া উদ্ধারকৃত বোমার গঠন ও উৎস নির্ণয় করতে ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হবে।
| তারিখ/বছর | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯ জুলাই ২০২৪ | নরসিংদী কারাগারে দাঙ্গা; কয়েদি পালায় (জুয়েলসহ) |
| ২৫ জুলাই ২০২৪ | জুয়েল নরসিংদী জেলা পুলিশের হাতে ধরা পড়েন |
| ৫ আগস্ট ২০২৪ | সরকার পতনের পর জামিনে বেরোনোর তথ্য (পুলিশ সূত্রে) |
| ডেমরা গ্রেফতারি | ডিএমপি ও এটিইউ যৌথ অভিযানে গ্রেফতার; দুই বোমা উদ্ধার |
পুলিশি বক্তব্য ও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা
পুলিশ বলছে, জুয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সহযোগী ও অপতৎপরতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বোমা নির্মাণ ও বিতরণ চেনের সন্ধান পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সশক্ত মামলা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণকে জনসাধারণিক সহায়তায় সতর্ক থাকার জন্য পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে এবং কেউ সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সন্ধান পেলে তা নিকটস্থ থানায় জানাতে বলেছে।
এই গ্রেফতারে এখনো পর্যন্ত স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় কোনো রাজনৈতিক নেতার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি কর্মী কী পদক্ষেপ নেবেন, সেটিও অনুসরণ করা হবে।