নরসিংদীর শিবপুরে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে প্রশাসন ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ যৌথ অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। অভিযানটি উপজেলার কারারচর মদিনা জুটমিল এলাকায় পরিচালিত হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব ও উপস্থিতি
অভিযানে নেতৃত্ব দেন শিবপুরের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এফএম নাঈম হাসান শুভ। তিতাস গ্যাস নরসিংদী কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। তিতাসের স্থানীয় অফিসের কর্মকর্তারা অভিযানের সময় সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ ও সার্ভিস লাইন স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কাজ তদারকি করেছেন।
তিতাসের মূল্যায়ন ও আর্থিক ক্ষতি
তিতাস গ্যাস নরসিংদী কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (জরুরি) আহম্মদ উল্লাহ জানায়, কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধ সংযোগ চিহ্নিত করা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্ট অফিসি জানান, এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির মালিকরা বৈধ অনুমোদন ছাড়া গ্যাস সংযোগ নিয়ে গোপনে ব্যবহার করে আসছিলেন।
"কারারচর মদিনা জুটমিল এলাকায় বিপুলসংখ্যক অবৈধ গ্যাস সংযোগ থাকার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।"
তিতাস কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক হিসাব বলছে, গত প্রায় পাঁচ বছরে এসব অবৈধভাবে ব্যবহৃত গ্যাসের কারণে সরকারের আর্থিক ক্ষতি আনুমানিক ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার কাছাকাছি।
জরিমানা ও আইনী ব্যবস্থাপনা
অভিযানে কিছু বাড়ির মালিককে জরিমানাও করা হয়েছে। সূত্রে জানানো হয়েছে, অবৈধ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হয়:
- আওয়াল ভূইয়া — ২ লাখ টাকা
- রোসন আক্তার — ৪০ হাজার টাকা
- মো. মুসলেম মিয়া — ১ lakh টাকা
- মুক্তা — ২ লাখ টাকা
| নাম | আরোপিত জরিমানা |
|---|---|
| আওয়াল ভূইয়া | ২,০০,০০০ টাকা |
| রোসন আক্তার | ৪০,০০০ টাকা |
| মো. মুসলেম মিয়া | ১,০০,০০০ টাকা |
| মুক্তা | ২,০০,০০০ টাকা |
সামগ্রিকভাবে অভিযানে আরও বেশ কিছু অবৈধ সংযোগ চিহ্নিত করে লাইনগুলো স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সরকারী নিরাপত্তা ও পরিসেবা ক্ষতি রোধের কড়াকড়ি অংশ হিসেবে এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিতাস সূত্রে বলা হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ করা হলে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতিই হয় না — বাড়িতে গ্যাস লিক হওয়া, বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বিশেষ করে পুরনো বা অননুমোদিত সংযোগে সেফটি ভেন্ট, রেগুলেটর ও সঠিক পাইপিং না থাকলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেক বেশি। স্থানীয় প্রশাসন ও তিতাসের একাংশ কর্মকর্তা মনে করিয়ে দিয়েছেন, নিরাপত্তার দিকগুলো নিয়েও নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।
পরবর্তী করণীয়
এ ধরনের অভিযান সাময়িকভাবে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও সমস্যার মূল কারণ হল গ্যাস সেবার অননুমোদিত প্রবেশ ও স্থানীয় চাহিদা ও আপাত সাশ্রয়ের কারণগুলোর প্রতিক্রিয়া। নীচে কয়েকটি পরামর্শগত দিক তুলে ধরা হলো যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকদের জন্য প্রাসঙ্গিক:
- বৈধভাবে গ্যাস সংযোগ পেতে তিতাসের নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করা।
- অবৈধ সংযোগ সম্পর্কে গোপনীয়ভাবে প্রশাসনকে জানানো।
- গ্যাস লিক বা অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।
তিতাস ও স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে আরও অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ নির্মূলের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর কথাও ভাবছে বলে সূত্রে জানা গেছে। তবে অভিযানের পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ও জরিমানা আদায়ে কী পরিমাণ কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হবে তা নিশ্চিত করতে তিতাস ও উপজেলা অফিসের আরও বিবৃতি বা নথিপত্র প্রয়োজন।
অভিযানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কি কোনো আরও মামলা দাখিল করা হয়েছে এবং বিচ্ছিন্নকৃত সংযোগগুলোর পুনরায় ব্যবহাকে কিভাবে প্রতিহত করা হবে—এই বিষয়ে তিতাস নরসিংদী কার্যালয় ও প্রশাসনের লিখিত বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।