ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) মতিঝিলের মধুমিতা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা এই উৎসব শহরের ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহের গুরুত্ব এবং চলচ্চিত্র-সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনকে কেন্দ্র করে গ্রাউন্ডে আলোচনা তীব্র করেছে।
উদ্বোধনী আয়োজন ও সম্মাননা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য চলচ্চিত্র শিল্পী, কলাকুশলী, সংবাদকর্মী ও ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মাননা দেওয়া হয়। ডিএসসিসি প্রশাসক ও অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বলা হয়, চলচ্চিত্র ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক সংগ্রাম যথাযথভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়—এ কারণেই চলচ্চিত্রকে শহরের ইতিহাস পরিচয়ের অংশ হিসেবে বিকশিত করতে হবে। তিনি নগরবাসীকে আগামী সাত দিন পরিবার-পরিজন নিয়ে মধুমিতা হলে বিনামূল্যে চলচ্চিত্র দেখার আহ্বান জানান।
চলচ্চিত্রপ্রেমী পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি অনুষ্ঠানের উদ্যোগের প্রশংসা করে স্মারকভাবে উল্লেখ করেন যে দেশের প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা একসময় বহুগুণ ছিল, কিন্তু ডিজিটাল যুগে দর্শকদের অভ্যাস বদলে গেছে। বক্তৃতায় তিনি দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সরকারের নীতিগত সহায়তার জন্য কলাকুশলীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়ার গুরুত্ব জানান।
“এই অনন্য উদ্যোগের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।”
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করে দেশের চলচ্চিত্রকে পুনরায় গতিশীল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, বিশ্বের উদাহরণ থেকে দেখা যায় ভালো চলচ্চিত্র দিলে দর্শক আবারও প্রেক্ষাগৃহে ফিরবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শহরের সাংস্কৃতিক চিত্র: বর্তমান অবস্থা ও উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র-প্রেক্ষাগৃহের হিসাব ও পরিবর্তনকেও সামনে আনা হয়। বক্তারা বলেন একসময় সারাদেশে সাড়ে আটশ’র বেশি সিনেমা হলে চলচ্চিত্র দেখ্যালোক আসে; তবে বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত। ডিএসসিসি উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শহরের ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহগুলোকে মনে করিয়ে দেওয়া ও তাদের গুরুত্ব তুলে ধরা।
- উৎসবের মাধ্যমে ঢাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
- ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ ও চলচ্চিত্রকর্মীদের সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে।
- সাপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করা হবে, যাতে সবার জন্য সাংস্কৃতিক উপভোগ্যতা নিশ্চিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনুসহ অন্যান্য পাত্রপক্ষ। স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা প্রাপ্তদের মধ্যে ছিলো বাংলাদেশের পরিচিত নন-বর্তমান প্রজন্মের শিল্পী ও ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানসমূহ।
| বর্ণনা | উদ্দেশ্য/তথ্য |
|---|---|
| উৎসবের কালপরিধি | এক সপ্তাহ (মধুমিতা হলে প্রতিদিন প্রদর্শনী) |
| বিশেষ উদ্যোগ | বিনামূল্যে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সম্মাননা প্রদান |
চলচ্চিত্র মহলের পাশাপাশি নগরবাসী, স্থপতিবিদ, সংস্কৃতি কর্মী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এই উদ্যোগ ইতিবাচক প্রতিধ্বনি ফেলেছে। অনেকেই মনে করেন—যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভালো কনটেন্ট তৈরি ও সঞ্চালন করা যায়, তাহলে প্রেক্ষাগৃহ ও সিনেমা দর্শকের পুনরুদ্ধার সম্ভব।
এই আয়োজন ঢাকার মধ্যে বিনোদন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক বাস্তব প্রচেষ্টার স্বরূপ; স্থানীয় প্রশাসন থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করলে শহরের সাংস্কৃতিক প্রাণ ফিরে আনা সম্ভব বলে অনেকে মত প্রকাশ করছেন।
সূত্র: ডিএসসিসি কর্তৃক আয়োজিত 'হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬' উদযাপন উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান, মধুমিতা হল, মতিঝিল।