চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট সীমান্ত এলাকায় মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) গত ২৮ আগস্ট রাতভর পৃথক তিনটি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে এবং এক তরুণকে আটক করেছে। অভিযানে মোট ৫০২ বোতল ভারতীয় উৎপত্তির এসকুফ সিরাপ ও ১৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের বর্ণনা
বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনটি তল্লাশি-বিশেষ অভিযানে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট তল্লাশি করা হয়। প্রথম অভিযানে সোনামসজিদ বিওপির একটি টহল দল শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর গ্রাম থেকে মো. মামুনুর রশীদ (১৯) নামের এক যুবককে আটক করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৩১০ বোতল এসকুফ সিরাপ, একটি সিএনজি ও একটি মোবাইল ফোন।
অন্য দুটি অভিযানে চাঁনশিকারী ও তেলকুপি বিওপির টহল দলগুলো বিভিন্ন আমবাগান ও খোলা স্থানে মালিকবিহীন অবস্থায় রাখানো মাদক জব্দ করে। সেখানে থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪৪ বোতল এবং ৪৮ বোতল এসকুফ সিরাপ; তেলকুপির অভিযানে additionally ১৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি বাইসাইকেল জব্দ করা হয়। তিনটি অভিযানে মিলিতভাবে জব্দ হওয়ার চূড়ান্ত সংখ্যা দাঁড়ায় উপরের সংখ্যাগুলোর সমষ্টিতে।
জব্দকৃত মালামাল — দ্রুতসারণী
| আইটেম | সংখ্যা |
|---|---|
| এসকুফ সিরাপ (ভারতীয়) | ৫০২ বোতল |
| ইয়াবা ট্যাবলেট | ১৭৫ পিস |
| অতিরিক্ত জিনিস | ১ সিএনজি, ১ মোবাইল ফোন, ১ বাইসাইকেল |
বিজিবি কর্তৃপক্ষের মন্তব্য
“ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলার্যান্স নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান ও মাদক কারবার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ও কঠোর নজরদারি নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”
মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী উপরের কথাগুলো গণমাধ্যমকে জানান। তিনি জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত অঞ্চল আগেই চোরাচালান ও মাদক প্রবাহের অনুকূল অবস্থার কারণে সমস্যায় জড়িয়ে পড়েছে। এই ধরনের বড় আকারের জব্দ সংবাদস্থলে একদিকে সান্ত্বনাদায়ক—কারণ সীমান্তরক্ষীরা সক্রিয়ভাবে অভিযান চালাচ্ছে—অন্যদিকে এটি এলাকার তরুণ প্রজন্মের উপর মাদক প্রবাহের সম্ভাব্য মাপে উদ্বেগও বাড়ায়। স্থানীয় মানুষজন বলছেন, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও সমন্বিত আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম না থাকলে পুনরায় এই ধরনের ঘটনা ঘটা সম্ভব।
আইনগত ও প্রশাসনিক পরবর্তী পদক্ষেপ
বিজিবি জানিয়েছে, আটককৃতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। জেলা বা থানা পর্যায়ে মাদক-সংক্রান্ত মামলায় সাধারণত জব্দকৃত দ্রব্যাদি তথ্যগতভাবে সাফ সোজা করে মেয়াদপূর্তির প্রক্রিয়া ও ফরেনসিক যাচাইয়ের পরে আদালতে চালান করা হয়। সূত্রে জানা গেছে, বহিরাগত উৎপত্তির মাদকের উৎস নির্ধারণ করতে সীমান্ত পর্যায়ে আরও তদন্ত করা হবে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি ও করণীয়
- সীমান্তবর্তী এলাকায় কড়াকড়ি ও টহল বাড়ালে চোরাচালানকে কমানো সম্ভব।
- স্থানীয় জনগণকে মাদক বিরোধী সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে—বিদ্যালয়, মসজিদ ও কমিউনিটি লেভেলে কার্যক্রম জরুরি।
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় বৃদ্ধি করলে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আরও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা, কিভাবে মাদকের মূল নেটওয়ার্ক নির্ণয় করা হবে—এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা পুলিশ থেকে আলাদা কোনো তথ্য মেলেনি। বিজিবি জানিয়েছে অভিযান চলমান থাকবে এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হবে।