চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী শিবগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কালুপুর গ্রামে শনিবার ভোর রাতে বিজিবি ব্যাটালিয়ন-৫৩-এর জহুরপুর সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯৩ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ করেছে। অভিযানে মাদক নিশ্চিহ্ন করতে প্রতিরোধ অবস্থানে থাকা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে গেলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
অভিযানকেন্দ্র এবং উদ্ধারকৃত মালামালের বিবরণ
বিজিবি-৫৩ সূত্রে জানানো হয়, উদ্ধার করা ৯৩ বোতলের এস্কাফ সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৭,২০০ টাকা। উদ্ধারকৃত এসব মাদকদ্রব্য আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযানপ্রক্রিয়া ও সীমান্ত পাহারা জোরদার
জহুরপুর বিএোপির সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। বিজিবি জানায়, সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে এবং চোরাচালান প্রতিহত করতে উপজেলার বিভিন্ন অংশে পর্যায়ক্রমে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
“দেশের সীমান্ত রক্ষা এবং সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”
বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান।
এই আগস্টে সীমান্তে ব্যাটালিয়নের অভিযানের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
বিজিবি-৫৩ সূত্রে জানা যায়, চলতি আগস্ট মাসে সীমান্ত এলাকায় অভিযান শুরুর পর থেকে উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
| মাদকের ধরণ | জব্দকৃত পরিমাণ (বোতল) |
|---|---|
| এস্কাফ সিরাপ (ভারতীয়) | ৩৬৭ |
| ফেয়ারডিল সিরাপ | ১১৫ |
স্থানীয় প্রভাব ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
সীমানা পেরিয়ে মাদকদ্রব্য সরবরাহ ও চোরাচালান ওই এলাকার সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত ভারসাম্য বিঘ্নিত করে। বিশেষত কিশোর-কিশোরী ও যুবসমাজের ওপর নেশাজাতীয় ওষুধের ঝুঁকি বাড়ে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী এলাকা ও বাণিজ্যিক রুটে কড়া নজরদারি বৃদ্ধির আহ্বান জানাচ্ছেন।
- কেউ আটক না হওয়ায় অভিযানের প্রয়োগ ও সীমান্ত তহশিলায় আরও তদন্ত জরুরি।
- জব্দকৃত মাদক দ্রুত আদালতের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।
- স্থানীয় থানা ও সীমান্ত ফাঁড়িসহ সমন্বিত তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পটভূমি ও কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি
বিগত কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে সীমান্তের বিভিন্ন অংশে মোবাইল সিরাপ ও অন্যান্য ফ্লু-অ্যামেটিক ওষুধ চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে—যা অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসে তরুণ বয়সিদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। বিজিবি-৫৩ কর্তৃপক্ষ এই প্রবণতা রোধে কড়া অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরণের চোরাচালান রোধে তাদের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, বিজিবি ও পুলিশকে একযোগে কাজ করতে হবে যাতে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য দ্রুত সনাক্ত ও ধ্বংস করা যায় এবং চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। এই বিচারে স্থানীয় জনগণকে সন্দেহভাজন লেনদেন বা অনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কে গোপন সূত্রে বা উৎসাহদাতা ফোন লাইনে জানাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু হয়েছে। বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা যাবে পরবর্তী দিনগুলোতে তাদের তৎসংক্রান্ত আরো বিবরণ।