শিবগঞ্জ: জেলার শিবগঞ্জ সীমান্তে যৌথ টহল অভিযান চালিয়ে ৫৬টি ভারতীয় ব্যবহৃত চোরাই মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে আটক করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। বিজিবি জানিয়েছে, জব্দকৃত মোবাইলগুলোর আনুমানিক মূল্য ২৮ লাখ টাকা।
অভিযান ও আটক
মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) সূত্রে জানা যায় যে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় সোনামসজিদ বিওপি’র সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যে শিক্ষিত একটি টহল দল সীমান্ত মেইন পিলার-১৮৫ হতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাংলাদেশ অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন—শিবগঞ্জ উপজেলার শিয়ালমারা গ্রামের সানাউল্লাহ (২৮), হারুন-অর-রশিদ (১৯) ও ইয়াসিন আলী (১৯)। বিজিবি জানিয়েছে, মামলা দায়ের শেষে জব্দকৃত মোবাইল ও মোটরসাইকেলসহ তাদের শিবগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
জব্দসামগ্রী ও মূল্যায়ন
জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে
- ৫৬টি বিভিন্ন মডেলের ভারতীয় মোবাইল ফোন
- একটি মোটরসাইকেল
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মোবাইলগুলোর আনুমানিক মূল্য ২৮ লাখ টাকা।
| আইটেম | সংখ্যা/বিবরণ |
|---|---|
| মোবাইল ফোন | ৫৬টি (বিভিন্ন মডেল) |
| মোটরসাইকেল | ১টি |
| আটক | ৩জন |
বিজিবির বক্তব্য
“চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে উপরোক্ত মন্তব্য করেছেন।
উপজেলার প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় প্রভাব
শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুকুরিয়া ও সোনামসজিদ সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও পণ্য পাচারের একটি সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্ত অঞ্চলে অবৈধ পণ্য চলাচল চাপিয়ে দেয় বাজারে প্রতিযোগিতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতি; পাশাপাশি অপরাধ প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। আটককৃত মোবাইলসহ টহল চালানো হয়েছে ওই নিয়ন্ত্রণশীল এলাকার পাকা সড়কে—যেখানে জনসমাগম থাকে না বলেই যৌথ দল দ্রুত অভিযান সফল করতে পেরেছে।
প্রাকটিক্যাল ও স্থানীয় নিরাপত্তা পরামর্শ
সীমান্তবর্তী এলাকায় বাসিন্দাদের জন্য কিছু কার্যকর পরামর্শ:
- সন্দেহজনক পণ্য বা আর্থিক লেনদেন দেখে হলে তা নিকটস্থ বিজিবি/থানাকে জানাতে হবে।
- অবৈধ পথে কোনো পণ্য গ্রহণ বা পরিবহনে জড়িত না হওয়া শ্রেয়।
- সীমান্তের নিকটবর্তী রাস্তায় অপরিচিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি দেখলে প্রতিটি ঘটনার বিবরণ সংরক্ষণ করে কর্তৃপক্ষকে জানান।
পূর্বপ্রসঙ্গ এবং ভবিষ্যৎ করণীয়
সীমান্তরক্ষী বাহিনী বারবার জানিয়েছে যে, চোরাচালান রোধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং নিয়মিত টহল, সোরাগোলা করে অভিযানের সংখ্যা বাড়ানো হয়। তারপরও স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় তথ্যভিত্তিক গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলে স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করেন।
এই ধরনের অভিযান মেলার ফলশ্রুতিতে স্থানীয় বাজারে নকল বা চোরাই পণ্যের সরবরাহ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এগুলো অনিবার্য বলে বিজিবি মনে করছে।
মামলা দায়ের ও জব্দকৃত মালামাল থানায় হস্তান্তরের পর স্থানীয় প্রশাসন কিভাবে তা মোকাবিলা করবে এবং তদন্তে আর কি পর্যায়ের তথ্য উঠে আসে—এই বিষয়ে পরবর্তী সংবাদে বিস্তারিত দেওয়া হবে।