শিবগঞ্জে সকালে ও দুপুরে পৃথক দুটি দূর্ঘটনা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় মোট চার মোটরসাইকেল আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। ভোরদিকে মুসলিমপুরে ও দুপুরে কানসাট এলাকায় ওই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ভোর ৫টার দিকে কাজ শেষে কানসাট থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন দুজন আরোহী; দুপুরে কানসাট সোলেমান ডিগ্রি কলেজ এলাকায় অপর আরো দুজন একটি ট্রাক অতিক্রম করতে গেলে মুখোমুখি সংঘর্ষের শিকার হন।
ভোরের দুর্ঘটনা: নির্মাণাধীন কালভার্টে ধাক্কা ও খাদে পড়া
ভোরের দুর্ঘটনায় নিহতদের নাম পরিচয় দেওয়া হয়েছে—বালিয়াদিঘি গ্রামের জমির উদ্দীনের ছেলে আবু হায়াত (৩৫) ও সাদিকুল ইসলামের ছেলে হাবিবুর রহমান (২০)। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, তারা কাজ শেষে মোটরসাইকেলে কানসাট থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। মুসলিমপুর-টাকশালদিঘী সড়কের একটি নির্মাণাধীন কালভার্টের কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কালভার্টে আঘাত করে এবং খাদে পড়ে যায়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনিছুর রহমান বলেছেন, ভোরের ওই দুইজনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুপুরের সংঘর্ষে দুই জনের মৃত্যু
দুপুরের দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— শেখটোলা মহল্লার এরফান আলীর ছেলে আসাদ আলী (১৮) ও জাফর আলীর ছেলে জাবের আলী (১৯)। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, একটি ট্রাককে অতিক্রম (ওভারটেক) করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আসাদ; আহত জাবের হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
শিবগঞ্জ থানার আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরের দুজনের মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আগের রাতে পরের একটি দুর্ঘটনা—এক বাইসাইকেলচালকের মৃত্যু
এছাড়াও সোমবার রাতে সদর উপজেলার আতাহার এলাকায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় বাইসাইকেলচালক কাজিম (৩৫) গুরুতর আহত হন। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কাজিম সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের দিঘীপাড়ার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।
- ভোরের নিহত: আবু হায়াত (৩৫), হাবিবুর রহমান (২০)
- দুপুরের নিহত: আসাদ আলী (১৮), জাবের আলী (১৯)
- সোমবার রাতে নিহত: কাজিম (৩৫)
শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনিছুর রহমান: ভোরে নিহত হায়াত ও হাবিবুরের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে; দুপুরের দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
একদিকে মাত্র একদিনে এক পৌর ও এক উপজেলা এলাকায় চার জনসহ মোট তিনটি সংঘটিত দুর্ঘটনায় মোট পাঁচ জনের মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাগুলো চিহ্নিত করে কয়েকটি ইস্যু উঠে আসে—সড়ক নিরাপত্তা, দ্রুতগতির মালবাহী যানবাহন ও নির্মাণাধীন অবকাঠামোর পাশে পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অভাব। স্থানীয়রা বলছেন, নির্মাণাধীন কালভার্ট বা অন্যান্য পথযাত্রাসংক্রান্ত কাজ হলে আগে থেকেই সতর্ক সংকেত ও রাতের আলো-ব্যবস্থার প্রয়োজন।
শিবগঞ্জ জেলার বেশির ভাগ মহাসড়ক ও জেলাসড়কে ছোটখাটো নির্মাণ কাজ ও ভারি যানবাহনের চলাচল বেশি থাকে। এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও পথ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেবে—এটাই এখন প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন।
| দুর্ঘটনার সময় | অঞ্চল | মৃতপক্ষ |
|---|---|---|
| মঙ্গলবার ভোর | মুসলমানপুর (কালভার্ট) | আবু হায়াত (৩৫), হাবিবুর রহমান (২০) |
| মঙ্গলবার দুপুর | কানসাট (সোলেমান ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন) | আসাদ আলী (১৮), জাবের আলী (১৯) |
| সোমবার রাত | আতাহার (চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর) | কাজিম (৩৫) |
এই সংবাদে ব্যবহৃত তথ্যগুলো পুলিশের বাছাইকৃত বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রের ওপর ভিত্তি করে তোলা। প্রশাসন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবৃতি পাওয়া গেলে পরবর্তী রিপোর্টে জানানো হবে।