র্যাব-১০ মঙ্গলবার মধ্যদিনে রাজধানীর মধ্যবাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এক পরিচিত নামকে—নিশাত দিলরুবা জাহান (৩৯)। র্যাবের বিজ্ঞপ্তি বলে, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযোগে করা হয়েছে যে তিনি মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি ভুয়া এনজিওর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত লাভ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
র্যাবের বিবরণ ও গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট
র্যাব-১০ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিশাত দিলরুবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আত্মগোপনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন—র্যাব এই তথ্য জানিয়েছে।
“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আত্মগোপনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন,”
সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ‘অধিক লাভ’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা প্রায় ১০৫ কোটি টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছে। র্যাব জানায়, সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানাসহ তার পরিবারের কয়েকজন বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যা, মামলা ও দাবি
রিপোর্ট অনুযায়ী, সংস্থাটির মোট গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার এবং তাদের মোট পাওনার পরিমাণ প্রায় ১০৫ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা ২০২২ সাল থেকে সংস্থার বিরুদ্ধে প্রায় চার শতাধিক মামলা করেছেন। এসব মামলায় বাদী গ্রাহকদের আর্থিক দাবি প্রায় ৩২ কোটি টাকা।
| বিষয় | সংখ্যা/অর্থ |
|---|---|
| অভিযুক্ত গ্রেপ্তার | নিশাত দিলরুবা জাহান (৩৯) |
| অভিযোগিত অর্থ | ১০৫ কোটি টাকা |
| মোট গ্রাহক (আন্তর্জাতিকভাবে দাবি) | ৩৫,০০০ |
| আদালতে দায়ের করা মামলা | প্রায় ৪০০+ |
| বাদীদের দাবি | ৩২ কোটি টাকা |
গ্রেপ্তারি পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও প্রভাব
র্যাব জানায়, নিশাত দিলরুবা জাহানের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে তিন শতাধিক প্রতারণা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩০টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। গ্রেপ্তারের পর তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় অনেকে বলছেন, এ ধরনের ঘটনার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় সাধারণ আমসম্প্রদায়ের মানুষের ওপর—অর্থাৎ সংরক্ষণ ও আস্থা ভেঙ্গে যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এমন একাধিক অভিযোগ ও মামলা থাকায় ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা আর্থিক ন্যায্যতা ও টাকা ফেরত চাওয়ার জন্য বহু বছর ধরে কোর্ট-ঘোরাঘুরি করছেন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।
- গ্রাহক ও বাদীদের সংখ্যা: মূলত গ্রামীণ ও নগর দু’ দিক থেকেই হাজার হাজার মানুষ এই এনজিওর সেবাগ্রহণকারী ছিলেন বলে জানা গেছে।
- আইনি ঝুঁকি ও প্রক্রিয়া: র্যাব গ্রেপ্তারের পর তদন্ত চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতে প্রসিকিউশন করবে—র্যাবের কথ্য নির্দেশনা অনুসারে।
- স্থানীয় প্রভাব: চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতারণার বিষয়ে জনমনে উদ্বেগ ও বিচারকেন্দ্রিক প্রত্যাশা বেড়েছে।
মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা, তার স্ত্রী এবং পরিবারের ১২-১৩ জন সদস্য ও কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন—র্যাবের বিবরণী এ কথাই বলে। অভিযুক্ত নিশাতের স্বামী সানোয়ার হোসেনও সংস্থার পরিচালনা কমিটির একজন নির্বাহী সদস্য হিসেবে পরিচিত।
আচরণগত দায়িত্ব থেকে শুরু করে আর্থিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে এখন বিচারিক ফলাফল ও তদন্ত রিপোর্টই প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্তের জন্য নির্ধারণি হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালত দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তে পৌঁছে অনাস্থা দূর করবেন। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত নিশাত দিলরুবা জাহানকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে।