বরিশাল মহানগরীতে ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে শুধুমাত্র ওষুধ বা কিট-কর্মী নিয়োগের উপর ভরসা না রেখে সমাজভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা গড়ে তোলার একটি উদ্যোগ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে।
অভিযানটি কীভাবে চালানো হলো
আয়োজকরা অভিযানটির নাম রেখেছেন ‘আমাদের বরিশাল, আমরাই পরিচ্ছন্ন করব’। কর্মসূচি হাতেম আলী কলেজের সামনে থেকে শুরু করে চৌমাথা বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে চলেছে। অংশগ্রহণকারীরা ময়লা-আবর্জনা সরানো, রাস্তার পাশে জমে থাকা জল অপসারণ এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করার কাজ করেছেন।
অভিযানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিডি ক্লিন নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। তাদের নির্দেশনায় এবং সহায়তায় দ্রুতভাবে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ ও পনিরোধমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়।
অঙ্গীকার ও সাধারণ দিকনির্দেশ
অভিযান পরিচালনাকারী আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব কেবল প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দেয়া সম্ভব নয়; নগরবাসীকে প্রত্যেকে নিজ‑নিজ জায়গা থেকে সচেতন হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি জনগণকে বাড়ি, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়কের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।
“ডেঙ্গু প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। নগরবাসীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে,”
অভিযানের স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, পরিচ্ছন্নতা একটি একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। তারা বাড়িতে, হোটেল-দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশ নিয়মিত পানি নিষ্কাশন ও আবর্জনা অপসারণে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
অংশগ্রহণকারীদের তালিকা ও ভূমিকা
অভিযানে উপস্থিত সংগঠনিক ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন—
- আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ (নেতৃত্ব)
- হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান খান
- বিডি ক্লিনের উপদেষ্টা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খোরশেদ আলম
- বিডি ক্লিনের বিভাগীয় সমন্বয়ক জায়েদ ইরফান ও সহবিভাগীয় সমন্বয়ক আরিফ হোসেন
- অন্য স্থানীয় সমন্বয়ক ও সদস্যবৃন্দ
| প্রধান দায়িত্ব | উদ্দেশ্য |
|---|---|
| ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ | এডিস মশার প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ কমানো |
| জমে থাকা পানি অপসারণ | ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার ঝুঁকি কমানো |
| জনসচেতনতা প্রচার | নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে টেকসই পরিচ্ছন্নতা |
পটভূমি ও মৌসুমী প্রেক্ষাপট
আয়োজকরা জানান, বর্ষা মৌসুমে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার উৎবীজন বৃদ্ধি পায়। ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্ত করার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এই অভিযানের উদ্দেশ্য enkel স্থানিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়; বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করে দীর্ঘমেয়াদি আচরণগত পরিবর্তন আনা। অভিযানের অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, যদি প্রতিজন নাগরিক নিজের পরিসর নিয়মিত পরিষ্কার রাখে এবং যেখানে পানি জমে সেখানটি সার্বিকভাবে নিরসন করে, তাহলে এডিস মশার বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সরকারি ও স্থানীয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা
অভিযান চলাকালীন অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসনিক সমন্বয় ও সরঞ্জামের আরও সমর্থন চেয়েছেন—বিশেষত অনিয়মিত আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও দূষিত পানি নিষ্কাশনে স্থানীয় সরকার ও পদক্ষেপ গ্রহণকারী দিক থেকে সহায়তা প্রয়োজন।
পরবর্তীতে আয়োজনকারীরা একই ধরনের আরও পরিচ্ছন্নতা অভিযান নগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং নাগরিক সমন্বয়ে এটি একটি নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক অনুস্মারক: ডেঙ্গু প্রতিরোধে—
- জমে থাকা পানি সরান এবং স্বচ্ছ পাত্র ঢেকে রাখুন
- বাসার আশপাশ ও পয়েন্ট-শপিং এরিয়া নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন
- যদি জ্বর, মাথা ব্যথা বা দেহে রেশ দেখা দেয়, চিকিৎসা নিন এবং ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহন করুন
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে নগরবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমর্থনে পরিচ্ছন্ন ও মশকমুক্ত বরিশাল গঠন সম্ভব হবে।