দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ এলাকায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রাথমিক অভিযোগ
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর উপমহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান জিডিতে জানিয়েছেন, হয়তো ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হামলায় জড়িত ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায় যে শতাধিক লোক বাঁশের লাঠি ও ইট-পাটকেল দিয়ে উপকেন্দ্রের প্রধান ফটকে আঘাত করছে এবং অফিসকক্ষের জানালার গ্রিল ও কাঁচ ভাঙচুর করছে। দেখা যায়, কিছু মানুষ উল্লাসও করছে এবং ভাঙচুরের সময় ‘‘ভুয়া, ভুয়া’’ স্লোগান দেয়া হয়।
ঘটনাস্থলে আশপাশে নারী ও শিশুদের উপস্থিতিও ভিডিওতে ধরা পড়ে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাবি, নিম্নলিখিত স্থানে ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে—প্রধান ফটকের ক্ষতি, নিচতলার ও দ্বিতীয় তলার জানালার কাচ ভাঙা, সিসিটিভি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত এবং সিঁড়ির পাশের কাচ ভেঙে গেছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও অনুসন্ধান
নবাবগঞ্জ থানা-পর্যায়ের পুলিশ এই ঘটনার একটি জিডি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। আফতাবগঞ্জ পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন:
"বিদ্যুতায়ন উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার নবাবগঞ্জ থানায় একটি জিডি হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
পুলিশ দ্রুত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে এবং যে সমস্ত ব্যক্তি এতে দেখা যাচ্ছে তাদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার বা অভিযোগ জমা করার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সংযোজন করা হয়নি।
সমিতির দাবি ও ঘটনার প্রেক্ষাপট
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ অভিযোগ করেছে যে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। ওই উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ওই এলাকায় এই ধরনের ভাঙচুরের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সমিতি মনে করছে। পল্লী বিদ্যুতের ব্যবস্থাপক জ্বালানি ও বিতরণের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও ঘটনার পর তারা থানায় জিডি করে তদন্ত কামনা করেছেন।
স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ ও প্রভাব
উপকেন্দ্রটি ওই এলাকার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় স্থাপন। এর ওপর হামলা ও ভাঙচুর হলে সরবরাহে বিঘ্ন পড়তে পারে এবং জনজীবনে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। ভিডিওতে আশপাশে থাকা নারী ও শিশুদের উপস্থিতি বোঝায় যে ঘটনাটি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেও বিঘ্যাত করেছে।
- সমিতির জিডি: নবাবগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয়েছে।
- আলজামানার সংখ্যা (সমিতির দাবি): ২০০–২৫০ জনের মতো অজ্ঞাতনামা লোক।
- ক্ষতির ধরণ: প্রধান ফটক, জানালা কাচ, সিসিটিভি নষ্ট ইত্যাদি।
দ্রুত তথ্যস্বরূপ: ঘটনা ও ক্ষতি
| দিক | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ |
| সময় | সোমবার সন্ধ্যা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা |
| আনুমানিক জনসংখ্যা (সমিতির দাবি) | ২০০–২৫০ জন |
| ক্ষতির বিবরণ | দরজা, জানালার কাঁচ, গ্রিল, সিসিটিভি ক্যামেরা ইত্যাদি ভাঙচুর |
এখনও ঘটনাটির পেছনে সরাসরি যে সংগঠিত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা প্রমাণিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পল্লী বিদ্যুত সমিতি ও পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভিডিও ফুটেজ থেকে কয়েকটি ব্যক্তির পরিচয় নির্ণয় করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত উপকেন্দ্রের মেরামত করে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার নিষ্পত্তি নেয়া জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশি তদন্ত যদি দ্রুত ও সুস্পষ্ট অভিযান আকারে এগোয়, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের নাশকতা রোধে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা কমানো যাবে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে যে ধরনের ক্ষতি-ক্ষতিপূরণ, আইনগত পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা বাড়ানো যাবে তার সবকিছুই এখন তদন্তের উপর নির্ভর করছে। নবাবগঞ্জ থানা ও পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তামত তথ্য জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।