ইউনিট পুনরায় চালু, আংশিক শক্তি সরবরাহ শুরু
দিনাজপুর থেকে: বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৯টা ৪৩ মিনিটে পুনরায় চালু করা হয়েছে। কেন্দ্র পরিচালনাকারী সূত্র জানিয়েছে, মেরামত শেষে বর্তমানে এই ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ত্রুটিতে বন্ধ ছিল উৎপাদন
অবস্থানগত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে ইউনিটটির একটি পাম্পে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় এবং উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, ত্রুটি মেরামতের পর শনিবার সকাল থেকে ইউনিটটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে।
"ত্রুটি মেরামনের পর শনিবার সকাল থেকে ইউনিটটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে,"
কেন্দ্রের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা ও চ্যালেঞ্জ
কেন্দ্রটিতে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে বর্তমানে ১ নম্বর ও ৩ নম্বর ইউনিট সচল রয়েছে। ৩ নম্বর ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ১৬০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট। ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকে বন্ধ এবং ১ নম্বর ইউনিটে দীর্ঘদিন ধরে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিচ্ছে। সূত্রে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ১ নম্বর ইউনিটের বড় ধরনের সংস্কার বা ওভারহোলিং করার কথা থাকলেও তা আজ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। কেন্দ্রটিতে সচল দুই ইউনিট মিলিয়ে বর্তমানে গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে মোট ২৩0 থেকে ২৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
| ইউনিট | অবস্থান | গ্রিডে যোগান (মেগাওয়াট) |
|---|---|---|
| ১ নম্বর | চালু (সাময়িক বন্ধের পর পুনরায়) | ৫০–৫৫ |
| ২ নম্বর | বর্ধমান বন্ধ (২০২০ থেকে) | — |
| ৩ নম্বর | চালু | ১৬০–১৮০ |
অবকাঠামো ঝুঁকি ও প্রভাব
উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে কেন্দ্রটিতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সময়োচিত সংস্কারের গুরুত্ব উঠে আসে। ১ নম্বর ইউনিটে অনবরত যান্ত্রিক গোলযোগ হলে তা সরাসরি প্রতিফলিত হবে গ্রিডে যোগান ও উৎপাদন-ব্যবস্থাপনায়। বর্তমানে কেন্দ্র থেকে সরবরাহিত মোট ~২৩০–২৩৫ মেগাওয়াট দেশের মোট চাহিদার তুলনায় ক্ষুদ্র—তবু স্থানীয় গ্রিড ও বরাদ্দকৃত অঞ্চলের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ।
দ্রুত সংস্কারের দাবি
কেন্দ্রটির কর্মীরা ও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে ১ নম্বর ইউনিটটির যত দ্রুত সম্ভব ওভারহোলিং বা বড় সংস্কার প্রয়োজন। এমন না হলে ক্ষুদ্র ত্রুটিও বারবার উৎপাদন নষ্ট করে গ্রিড দুর্বলতা বাড়াতে পারে এবং জরুরি সময়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
- সংক্ষিপ্ত মেরামত: তাত্ক্ষণিকভাবে পাম্প বন্ধ হওয়ার জন্য সার্জিক্যাল মেরামত পরিচালিত হয়েছে এবং ইউনিট সচল করা হয়েছে।
- দীর্ঘমেয়াদি সমাধান: ১ নম্বর ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ ওভারহোলিং বা বড় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে—যা ২০২০ সালে নির্ধারিত ছিল কিন্তু এখনও করা হয়নি।
- গ্রিড প্রভাব: কেন্দ্রে তিনটি ইউনিট থাকলেও কার্যকরভাবে দুটি ইউনিট থাকায় সম্ভাব্য রিজার্ভ ক্ষমতা সীমিত।
পরবর্তী করণীয় ও নজরদারি
কেন্দ্রটির ওপর নির্ভরশীল অঞ্চলের শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পিত ওভারহোলিং বাস্তবায়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট সময়সীমা ও অর্থায়ন পরিকল্পনা জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন হবে।
এ পর্যন্ত রাজস্ব, পুনর্গঠন বা কিভাবে ওভারহোলিং করার পরিকল্পনা আছে—এসব বিষয়ে কেন্দ্র বা উচ্চতর প্রশাসনিক পর্যায় থেকে সংবাদমাধ্যমকে নথিভুক্ত তথ্য বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় ও সার্বিক বিদ্যুৎ যোগানে এ ধরনের ইউনিটের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা আবশ্যক বলে বিদ্যুৎকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন।
প্রতিবেদন সংকলন: এস এম, দিনাজপুর