দিনাজপুরে জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের এক-time নেতাকে আটক করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ভোরে কোতোয়ালী থানা ঘেরাও করে শ্রমিকরা। থানা প্রধান ফটকের সামনে বাস ও ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড বসিয়ে রাখায় শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও একাধিক আন্তঃজেলা রুটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে কোতোয়ালী থানা গেটের সামনে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন; তাদের মধ্যে চারজন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদসংস্থা।
ঘটনার সারমর্ম
জেলার কেন্দ্রীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাত পর্যায়ে দিনাজপুর শহরের মহারাজা বটতলী এলাকা থেকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে আটক করে। শেখ বাদশা ছিলেন জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জেলায় শ্রমিক লীগের সাবেক নেতা। তার এই আটককে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শ্রমিকেরা শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে বাস-ট্রাক রেখে সড়কে অবস্থান নেয় এবং কোতোয়ালী থানার প্রধান ফটকের সামনে ঘেরাও করেন।
পুলিশের বক্তব্য ও পরিস্থিতি
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী সংবাদদাতাকে বলেন, বাদশার নামে থানায় মামলা আছে এবং তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি আরও জানান, বর্তমানে দুইপক্ষের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান রয়েছে এবং কিছু ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বাদশাকে আদালতে পাঠানো হবে।
“শেখ বাদশার নামে থানায় মামলা আছে, তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।” — ওসি মোহাম্মদ নূরনবী
শ্রমিকদের দাবি ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
শ্রমিক প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর তাদের ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তাদের কথায়, শেখ বাদশা সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময়সূচি ছিল—বৃহস্পতিবার হলো মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাকে নির্বাচনে থেকে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই গ্রেপ্তারটি ঘটানো হয়েছে এবং এ কাজে স্থানীয় বিরোধী রাজনৈতিক প্রবীণেরা জড়িত রয়েছে।
জরুরি প্রকট প্রভাব
শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে দিনাজপুর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও ঢাকাগামী বাস সেবা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। যাত্রী ও পরিবহন চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা হতাশায় অপেক্ষা করেন; অনেকে পথ পরিবর্তন করে অন্য রুটে যাত্রা করার চেষ্টা করেন। জেলা কর্মকর্তারা ও প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে, তবে তাতে তাত্ক্ষণিক সুরাহা মেলে না বলেই জানায় প্রতিবেদকরা।
- আহত: কমপক্ষে ১০ জন শ্রমিক, ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি।
- অবলokন: কোতোয়ালী থানার প্রধান গেট ও শহরের অন্যান্য প্রধান প্রবেশপথ।
- পরিবহন ব্যাহত: আন্তঃজেলা ও ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
বিক্ষোভরত শ্রমিক নেতারা পুলিশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং বলেছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের নেতার মুক্তি দাবি করছেন। শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ শওকত আলী তোতা বলেন, দিনাজপুর জেলা থেকে বুধবার রাত ১১টা থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। তিনি জানান, এই নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
কী হচ্ছে এখন—ওরা কি আদালতে পাঠানো হবে?
ওসি নূরনবী জানান, প্রয়োজনীয় পরিস্থিতির মূল্যায়ন শেষে গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে পাঠানো হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের মধ্যে দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে; তাই পরিস্থিতি শান্ত হলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
| ঘটনার স্থান | প্রভাবিত সেবা |
|---|---|
| কোতোয়ালী থানা প্রধান ফটক | থানায় যাতায়াত বাধাগ্রস্ত, পুলিশ ও জনসাধারণের চলাচল সীমিত |
| দশমাইল মোড়, মির্জাপুর বাসটার্মিনাল, বটতলী ট্রাক টার্মিনাল | আঞ্চলিক ও আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ |
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদকরা তাদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া নিতে পারেনি বলে জানানো হয়েছে। আর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন স্থগিত আছে—প্রক্রিয়া চলমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ ও শান্তি প্রক্রিয়া কেমন হবে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পুনরায় উত্তেজনাক্রমে বদলে গেলে তার তথ্য সংস্করণে সংযোজন করা হবে।