সরকার দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে (দিমেক) ৫০০ শয্যা থেকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন দিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ‑২-এর ব্যয় ব্যবস্থাপনা শাখা‑৬ থেকে উপ সচিব শুক্লা সরকারের স্বাক্ষরিত স্মারকে এই সম্মতি জানানো হয়েছে। একই স্মারকে বর্ধিত ৫০০ শয্যায় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালুর জন্যও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যত্র উল্লেখ ও বাস্তবায়ন শর্ত
স্মারকে বলা হয়েছে যে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা‑১ শাখার গত ২১ মে একটি স্মারকের প্রেক্ষিতে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব বিধি‑বিধান, আনুষ্ঠানিকতা ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে পালন করতে হবে। অর্থ বিভাগের এই সম্মতির ফলে উত্তরাঞ্চলের এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালের শয্যা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া এক ধাপ এগিয়ে গেল।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ৫০০ হলেও রোগীর চাপ আরও বেশি থাকার কারণে কর্তৃপক্ষ সীমিত সক্ষমতায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিল—বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। শয্যার সংখ্যা বাড়ানো হলে অতিরিক্ত ৫০০ শয্যায় রোগী ভর্তি ও সেবা প্রদানের সুযোগ তৈরি হবে, যা দিনাজপুর ও আশপাশের জেলার রোগীদের সরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা গ্রহণে সুবিধা আয়োজনে সহায়ক হবে।
- অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ: অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ‑২, ব্যয় ব্যবস্থাপনা শাখা‑৬।
- স্বাক্ষরকারী: উপ সচিব শুক্লা সরকার (স্মারকে স্বাক্ষরিত)।
- স্বাস্থ্য শাখার রেফারেন্স: সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা‑১ শাখার ২১ মে’র স্মারক।
পরবর্তী ধাপ ও স্থানীয় প্রভাব
অর্থ শিক্ষিত এই সম্মতি প্রাপ্ত হওয়ার পর স্বাস্থ্যবিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বর্ধিত শয্যায় সেবা কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। স্মারকে বলা হয়েছে যে, এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সব আনুষঙ্গিক বিধি‑বিধান ও নিয়মকানুন প্রতিপালন করা অপরিহার্য।
স্থানীয় পর্যায়ে এর প্রভাব নিয়ে এখন যে প্রশ্নগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে, সেগুলো হলো:
- বর্ধিত শয্যায় প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও নার্সিং স্টাফ নিয়োগ ও প্রস্তুতি কবে সম্পন্ন হবে;
- আর্থিক ও সেবা‑পরিকাঠামোর প্রস্তুতি — বেডসহ অক্সিজেন, মেডিক্যাল সরঞ্জাম ও ওষুধের যোগান নিশ্চিত করা হবে কি না;
- অতিরিক্ত শয্যার ফলে হাসপাতালের বিভাগীয় কার্যক্রম ও রোগী পরিচর্যার মান কিভাবে বজায় রাখা হবে।
“অর্থ বিভাগের সম্মতি পাওয়ায় দিনাজপুরসহ আশপাশের জেলার রোগীদের জন্য সরকারি পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে,”
অর্থ বিভাগের স্মারকে প্রতিপালনের শর্ত আরোপ করা থাকায় বাস্তবে সেবা কার্যক্রম শুরু ও সম্প্রসারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এর মধ্যে বড় ধরনের কর্মসংস্থান ও বাজেট সমন্বয়, চিকিৎসক‑নার্স নিয়োগ, বিভাগীয় পুনর্বিন্যাস ও সরঞ্জাম ক্রয়‑বণ্টন অন্তর্ভুক্ত।
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা | সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন |
|---|---|---|
| অনুমোদিত শয্যা | ৫০০ | ১,০০০ (অর্থ বিভাগের সম্মতি) |
| বর্ধিত শয্যায় সেবা চালু | অ-চলমান (প্রাক‑অনুমোদিত) | অনুমোদিত; প্রশাসনিক প্রস্তুতি বাকি |
স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ে যে উদ্যোগগুলোর প্রয়োজন হবে সেগুলো নিশ্চিত করা জরুরি—নইলে শয্যা সংখ্যা বাড়লেও রোগীর সেবার মান ও প্রাপ্যতা প্রতিপালন সহজ হবে না।
এ বিষয়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য বিভাগের কাছ থেকে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক কর্মপরিকল্পনা ও সময়সীমা জানালে সংবাদে তা তুলে ধরা হবে।