দিনাজপুর থেকে—দেশে গম ও ভুট্টার চাষে গত কিছু বছরে 눈에 পড়ার মতো পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডব্লিউএমআরআই)। নশিপুরে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি উচ্চফলনশীল জাত, নতুন উৎপাদনপ্রযুক্তি এবং বীজ উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষকদের আয় ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কাজ করছে।
সংক্ষিপ্ত পরিসরে সফলতা
বিডব্লিউএমআরআই সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা মোট ৩৮টি উচ্চফলনশীল গমের জাত এবং ২৯টি ভুট্টার (মেইজ) জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ভুট্টার ২০টি উচ্চফলনশীল হাইব্রিড রয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে সাদা ভুট্টা, সুইট কর্ন, বেবি কর্ন ও পপ কর্ন। বিশেষ করে গত সাত বছরে গমের জন্য নতুনভাবে উদ্ভাবিত পাঁচটি উচ্চফলনশীল জাতকে নম্বর দিয়ে রাখা হয়েছে—বিডব্লিউএমআরআই ১ থেকে ৫।
গবেষণা থেকে মাঠ—প্রযুক্তির প্রয়োগ
প্রতিষ্ঠানটি শুধুই বীজ ধরিয়ে দেওয়াই করছে না; চাষ পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনার জন্য ২৫টি নতুন উৎপাদন প্রযুক্তি এবং চার-ফসলভিত্তিক লাভজনক ফসল ধারার উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি প্রযুক্তি হলো পাওয়ার টিলারচালিত বীজ বপন যন্ত্র, যার মাধ্যমে এক চাষে সারিতে বীজ বপন করা সম্ভব হয় এবং প্রতিষ্ঠান সূত্রে বলা হয় এই প্রযুক্তি দিয়ে চাষের ব্যয় প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে।
অন্য উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে ব্লাস্ট রোগের সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা, ফল আর্মি ওর্ম ব্যবস্থাপনা এবং মাটি সংশোধনের পদ্ধতি—যা বিশেষভাবে অম্লীয় মাটিতে ফলন বাড়াতে কার্যকর বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও বিস্তার
বিডব্লিউএমআরআই প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৮৪ সালে বারি অধীনে ‘গম গবেষণা কেন্দ্র’ হিসেবে। পরে ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর 'বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭' প্রণয়ন ও প্রযোজ্য বিধির মাধ্যমে এটি স্বায়ত্তশাসিত গবেষণা সংস্থায় পরিণত হয়। দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুরে মূল প্রতিষ্ঠানটি ১৪টি গবেষণা বিভাগ, ৫টি আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র (গাজীপুর, জামালপুর, রাজশাহী, যশোর ও হাটহাজারী), একটি বীজ উৎপাদন কেন্দ্র (দেবীগঞ্জ) এবং একটি বীজ উৎপাদন উপকেন্দ্র (ঠাকুরগাঁও) পরিচালনা করছে।
| বিষয় | সংখ্যা/বিবরণ |
|---|---|
| উচ্চফলনশীল গমের জাত | ৩৮টি |
| ভুট্টার জাত | ২৯টি (যাতে ২০টি হাইব্রিড) |
| গবেষণা বিভাগ | ১৪টি |
| আঞ্চলিক কেন্দ্র | গাজীপুর, জামালপুর, রাজশাহী, যশোর, হাটহাজারী |
সাফল্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক তাত্পর্য
বিডব্লিউএমআরআইর গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করে ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়। স্থানীয় ও দেশের স্তরে এ ধরনের জাত ও প্রযুক্তি গ্রহণ হলে আমদানি-নির্ভরতা কমে, কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ঝুঁকি হ্রাস পায় এবং খাদ্য নিরাপত্তায় শুভ প্রভাব পড়ে। বিশেষত গম ও ভুট্টা চাষের ব্যাপারে যদি বেশি অংশীদারিত্বে এই জাত ও প্রযুক্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তবে অঞ্চলের কৃষি বাণিজ্যিকীকরণে দ্রুত উন্নতি আসবে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথ
তবে প্রতিষ্ঠানটি সম্পদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করছে—গবেষণাগার ও যন্ত্রপাতি, জনবল ও গবেষণা মাঠের অপর্যাপ্ততা এখনও বড় বাঁধা। despite these constraints, বিডব্লিউএমআরআই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষক ও সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও জাতগুলোর অফিসিয়াল বীজ সরবরাহ বাড়ালে বাস্তব বৃদ্ধি আরও দ্রুত দেখা যাবে।
- ফসল বচাঁর জন্য দ্রুত বীজ সরবরাহ জরুরি—কৃষি সম্প্রসারণকে উত্সাহিত করতে হবে।
- ক্ষুদ্রকৃষকের কাছে প্রযুক্তি পৌঁছানো—পাওয়ার টিলারচালিত বীজ বপন যন্ত্রসহ প্রযুক্তির মডেল প্রয়োগের মাধ্যমে খরচ কমানো সম্ভব।
- গবেষণার জন্য স্থায়ী বিনিয়োগ—যন্ত্রপাতি ও ক্ষেত্র সম্প্রসারণে বাজেট বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
বিডব্লিউএমআরআইর এই অর্জনগুলো দিনাজপুরকে কৃষি গবেষণার মানচিত্রে শক্ত অবস্থান দিয়েছে। আগামী দিনে এসব প্রযুক্তি ও জাত দ্রুত মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে গেলে এলাকার কৃষকরা এ থেকে সরাসরি উপকৃত হবেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।