দিনাজপুরের সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনীতিক ও বর্ষীয়ান নেতা সতীশ চন্দ্র রায় আর নেই। মঙ্গলবার রাতে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ৯৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যু ও শেষকৃত্য — family সূত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত (সূত্রগুলোর মধ্যে সময় পার্থক্য রয়েছে) তিনি নিজ গ্রাম—বিরল উপজেলার ৯ নম্বর মঙ্গলপুর ইউনিয়নের মোস্তফাবাদে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরের দিন বুধবার দুপুর ১২টায় ঐ পারিবারিক সমাধিক্ষেত্রে তাঁর শেষকৃত্য ও অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন করা হয়।
রাজনৈতিক জীবন ও দায়িত্ব
সতীশ চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বহুমুখী। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পেশাগত জীবনে শিক্ষকতা করলেও পরে তিনি পারদর্শী রাজনীতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। স্বাধীনতা-উত্তর সময় তিনি প্রথমে দিনাজপুর-৭ এবং পরে দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ এলাকাসমূহ) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ অনুযায়ী তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়েও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। দৈহিকভাবে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনে তিনি রাজনৈতিকভাবে একটি অর্থবহ ছাপ রেখে গেছেন।
পারিবারিক ও সরকারি পরিচয়
নিয়মিত সূত্রে জানা যায়, সতীশ চন্দ্র রায় ১৯৪১ সালের ৩০ নভেম্বর বিরল উপজেলার মোস্তফাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনি এবং অনেক গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।
“বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড় ছেলে অরবিন্দু রায়।”
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও কর্মীরা শোক প্রকাশ করেছেন। সূত্রগুলো জানায়, গ্রাম্য পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় তিনি সক্রিয় ছিলেন; তাই তাঁর সঞ্চিত রাজনৈতিক স্মৃতি ও কার্যক্রম এলাকায় এখনো লক্ষ্যণীয়।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী পরিণতি
দিনাজপুর-২ আসন ও ক্ষতিকারক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সতীশ চন্দ্র রায়ের চলে যাওয়া স্থানীয় রাজনৈতিক চিত্রকে প্রভাবিত করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সাধারণ ধারণা। দীর্ঘদিনের সাংসদ ও মন্ত্রীর অভিজ্ঞতা স্থানীয় নেতৃত্ব ও দলীয় কৌশলে একটি বিরাট শূন্যতা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি তাঁর অনুসারী ও এলাকায় দীর্ঘ সময় গড়ে ওঠা রাজনৈতিক সম্পর্কগুলোর পুনর্গঠন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়বে।
- জন্ম: ১৯৪১ সালের ৩০ নভেম্বর (বিরল, মোস্তফাবাদ)
- আয়ু: ৯৫ বছর
- সাংসদীয় আসন: দিনাজপুর-৭ (পূর্বে), পরবর্তীতে দিনাজপুর-২
- মন্ত্রিত্ব: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী (১৯৯৬), পরবর্তীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব
নদীয় ও গ্রাম্য ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সতীশ চন্দ্র রায়ের জীবন ও কর্মের বিবরণ স্থানীয় ইতিহাসে রয়ে যাবে। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিকভাবে স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ ও পারিবারিক শোক এখন এলাকায় প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্ম | ১৯৪১-১১-৩০ (মোস্তফাবাদ, বিরল) |
| বয়স | ৯৫ বছর |
| সংসদীয় আসন | দিনাজপুর-৭ (পূর্ব), দিনাজপুর-২ |
| মন্ত্রিত্ব | মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন |
| শেষকৃত্য | মোস্তফাবাদ পারিবারিক শ্মশানে (বিরল) |
এ খবর প্রকাশের সময় আরও বিশদ তথ্য পাওয়া গেলে তা পাঠককে জানানো হবে।