জয়পুরহাট শহর ও আশপাশের মানুষরা আট মাস ধরে জয়পুরহাট–আক্কেলপুর রুটে বাসে ভ্রমণ করতে পারছেন না। ফরসা পরিবর্তন করে পথে দেখা যায়, বেশিরভাগ যাত্রী এখন ট্রেন বা ইজিবাইকেই ভর করেই যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসমালিক ও যাত্রীদের ঠিক কতটা কষ্ট হচ্ছে—সেটা নিজেরাই বলছেন।
কী ঘটেছে: বাস বন্ধ হওয়ার কারণ ও প্রভাব
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে ইজিবাইকগুলোয়ের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীদের বসবাসের অভ্যাসও বদলেছে। ইজিবাইক যাত্রীদের সূদৃশ সুবিধা দেয়—চাহিদামত যাত্রা ওঠা-নামা এবং তুলনামূলক দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো। এর ফলে বাসের যাত্রী কমে যাওয়াটা একমাত্র কারণ নয়;
- বাসগুলো অনিয়মিত সময়সূচি মেনে চলে না,
- রাস্তায় বারবার নির্দিষ্ট স্থানে না থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা হয়,
- সামগ্রিকভাবে যাত্রীসেবার মানও সন্তোষজনক নয়।
এই সব মিলিয়ে বাসমালিকরা অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং রুটে সরাসরি বাস চালনা বন্ধ করে দিয়েছেন।
ঐতিহ্য ও ভাড়া পরিবর্তন
জয়পুরহাট বাস টার্মিনাল থেকে আক্কেলপুর উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। স্থানীয়দের স্মরণ অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকে এই রুটে বাস যাত্রা শুরু করে। তখন ভাড়া ছিল মাত্র ৩ টাকা; ধাপে ধাপে বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা। এক সময় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০টি বাস এই রুটে চলাচল করত, সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বিরামহীন পরিষেবা থাকত।
| বিষয় | অবস্থা (সূত্র অনুযায়ী) |
|---|---|
| রুটের দূরত্ব | প্রায় ২০ কিলোমিটার |
| প্রাথমিক ভাড়া (১৯৮০-এর দশক) | ৩ টাকা |
| বর্তমান ভাড়া | ৪০ টাকা |
| দৈনিক বাস চলাচল (অতীতে) | প্রতিদিন গড়ে ≈৩০টি বাস |
যাত্রী ও স্থানীয়দের কথায় পরিণতি
রুটে নিয়মিত যাত্রীর কয়েকজন জানান, বাসে সময় বেশি লাগে কারণ বাসকে পথের বিভিন্ন স্থানে থামাতে হয় যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য। ফলে ২০ কিলোমিটার পথটি অনেক বেশি সময়ে কেটেছে। অপরদিকে ইজিবাইক যাত্রীদের তাদের সুবিধামতো যে কোনো স্থানে ওঠানামা করার সুযোগ দেয়, বসে যাওয়ার চাপও তুলনামূলক কম থাকে।
“আগে যাত্রী ভালো ছিল। এখন অনেক সময় অর্ধেকের কম যাত্রী নিয়ে বাস ছেড়ে যায়,”
এ মন্তব্য করেছেন এক বাসচালক রাজু হোসেন।
স্থائی সমাধান ও স্থানীয় অভিমত
আক্কেলপুর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আতিউর রাব্বি তিয়াস উল্লেখ করেছেন যে রুটে বাস সেবার অভাব দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের ও বাস মালিকদের চিন্তার বিষয় হওয়া উচিত। তিনি বলেছেন, জয়পুরহাট ও আক্কেলপুরের মধ্যে যাতায়াতে ট্রেন ও ইজিবাইকের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লেও নিয়মিত বাসসেবা রাখা প্রয়োজন।
স্থানীয় অভিভাবক, কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের কাছে বাস বন্ধ থাকার প্রভাব স্পষ্ট: দৈনন্দিন পেশায় ছন্দপতন, অপেক্ষা ও অতিরিক্ত খরচ। ট্রেন ভ্রমণ সস্তা হলেও চলাচলের সময়সূচি ও স্টেশন-অফসেটের কারণে সবার পক্ষে তা স্বচ্ছন্দ নয়। ইজিবাইক যে স্বাধীনতা দেয়, তাতে কিছু ভ্রমণকারী সময় বাঁচালেও নিরাপত্তা, অধিগ্রহণাধীন ভাড়া ও বসার নিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ আছে।
কি করা যায়: স্থানীয় প্রত্যাশা
স্থানীয়রা বলছেন যে এই রুটে বাস পুনরায় চালু করতে হলে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি:
- নিয়মিত সময়সূচি নির্ধারণ এবং তা মেনে চলা,
- নিয়মিত ও নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করা,
- বাসসেবার মান বাড়ানো যাতে তুলনায় যাত্রী আগ্রহ ফিরে আসে।
সংশ্লিষ্ট পক্ষ—বাসমালিক, চালক-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় না হলে পরিস্থিতি ততটা বদলাবে না বলে মত প্রচলিত।
জেলা প্রশাসন অথবা পরিবহন বিভাগ থেকে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়—তবে স্থানীয়দের দাবি যে রুটে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য বাসসেবা ফিরে এলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেক কমে যাবে।