জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে রবিবার সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। জরুরি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যের সেবা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে হেলথ হাব এবং প্রতি তিনটি ওয়ার্ড মিলিয়ে একটি করে হেলথ ওয়েলবিয়িং সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে।
কেন এই পরিকল্পনা জরুরি
মন্ত্রী বলেছেন, এসব কেন্দ্রে চিকিৎসা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা একই ছাতার তলে মিলবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য যাচাই করবেন। দরিদ্র ও প্রান্তিক সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে পৌঁছে প্রাথমিক রোগনির্ণয় ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা, পাশাপাশি স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ের শনাক্তকরণই এসব কেন্দ্রের লক্ষ্য থাকবে।
“হেলথ হাবের’ মাধ্যমে একই ছাতার নিচে স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করা হবে।”
পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, সিভিল সার্জন আল মামুন ও জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রাশেদ মোবারক জুয়েলসহ ঊর্ধ্বতন চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা
মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫১ করা হবে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে ডায়ালাইসিস সেবা চালু করার প্রস্তাব রয়েছে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে যে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ১০টি এবং ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার হাসপাতালে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মেডিকেল কলেজের শিক্ষক সংকট কাটাতে কাজ চালানো হবে এবং বন্ধ থাকা আইসিইউ সেবা পুনরায় চালু করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
| স্তর | পরিকল্পিত ডায়ালাইসিস মেশিন |
|---|---|
| জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল | ১০ টি |
| ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার হাসপাতাল | ৫০ টি |
স্থানীয় প্রভাব ও প্রত্যাশা
জয়পুরহাটে এই ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় রোগীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সুবিধা যদি নিকটস্থ হাসপাতালে পাওয়া যায়, রোগীরা ভ্রমণের খরচ ও সময় বাঁচাতে পারবেন। উপজেলা হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি হলে জরুরি ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা লাভের অপেক্ষা তৈরি হবে।
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা এক ছাতার নিচে নিশ্চিত করা।
- ঘরায়ণ পর্যায়ে রোগনির্ণয়—রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার।
- উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে সেবা বিস্তার।
- ডায়ালাইসিস সেবা ও আইসিইউ পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ।
সর্বশেষ মন্ত্রী এই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময়সীমা হিসেবে উল্লেখ করেছেন দুই থেকে তিন বছর। তবে তিনি সেবার মান বাড়লেও দায়িত্বে অবহেলা সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন।
চলমান চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবায়নের প্রশ্ন
এই ঘোষণাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, মানসম্মত সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ এবং নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। স্থানীয় কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুসংহত কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ জরুরি হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়, এবং স্থায়ী কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ না হওয়া পর্যন্ত সেবা সম্প্রসারণ সীমিত থেকে যেতে পারে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর ঐ সতর্কবার্তাটি স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতার ওপর চাপ বাড়াতে পারে, তবে রোগীদের জন্য সুবিধা বৃদ্ধি হারানো উচিত নয়—এটাই ছিলেন মন্ত্রীর বার্তার সারমর্ম।