রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দূর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে এখনও মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে নাই। ফলে অনলাইন ফরম পূরণ, ভর্তি, সরকারি সেবা গ্রহণ ও আর্থিক লেনদেনে স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ইউনিয়নের মানুষের দাবি—দ্রুত সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করতে হবে।
দৈনন্দিন সেবায় ডিজিটাল শূন্যতা
২০০৮ সালে পাহাড় অঞ্চলে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ফারুয়া ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি গ্রামে তা পৌঁছেনি। ২০২৪ সালে উপগ্রহভিত্তিক স্টারলিংক সার্ভিস আসার পরও পুরো ইউনিয়নকে কভার করতে পারেনি; স্থানীয়রাও বলছেন, সার্ভিস পেতে এখনো নির্দিষ্ট স্থানে যেতে হয়।
ফারুয়া ইউনিয়নের অনগ্রসর ভূগোল এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রমে অংশ নিতে বারবার অসুবিধার মুখে পড়ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ইন্টারনেটের অভাব শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিক্ষাসুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে।
স্থানীয় পরিসংখ্যান ও প্রভাব
| উপাদান | সংখ্যা/বিবরণ |
|---|---|
| নেটওয়ার্কবঞ্চিত গ্রাম | অন্তত ৫০টি গ্রাম |
| স্কুল | ২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় |
| বর্তমান ইন্টারনেট বিকল্প | উপগ্রহভিত্তিক স্টারলিংক (নির্দিষ্ট স্থানে সার্ভিস গ্রহণ) |
ডিজিটাল সেবা না থাকায় যে সমস্যাগুলো মূলে দেখা যায় তা সংক্ষেপে:
- অফলাইন থাকায় অনলাইন ভর্তি, পাসওয়ার্ড-ভিত্তিক সরকারি সেবা গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ।
- শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষা ও অনলাইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ সীমিত।
- ব্যাংকিং ও মোবাইল মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন কঠিন হয়ে পড়েছে।
- স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে তৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া কঠিন।
ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “নেটওয়ার্কজনিত সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।”
স্থানীয় প্রত্যাশা ও প্রস্তাবিত সমাধান
ফারুয়া ইউনিয়নের মানুষ দ্রুত সাশ্রয়ী এবং স্থায়ী সমাধান চান। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন ও ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ। স্টারলিংকের মতো উপগ্রহভিত্তিক সেবা উপকারী হলেও তা স্থানীয়দের ঘরে-ঘরে পৌঁছে না—এটা স্থায়ী সমাধান নয় বলে ধারণা স্থানীয়দের।
স্থানীয় নেতারা বলছেন, সরকারি উদ্যোগ ও অপারেটর কোম্পানির সমন্বয়ে পরিকল্পিতভাবে টাওয়ার স্থাপন ও রিলেগেশন কাজ করলে দ্রুত ফল পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিকল্পনা কার্যকর করার দাবি উঠেছে।
রাঙ্গামাটি—প্রকৃতির সৌন্দর্য আর ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার সংমিশ্রণ করলেও জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতে জেলা ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ পুনরায় দাবি তুলেছে ফারুয়া’র বাসিন্দারা। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মৌলিক যোগাযোগ অবকাঠামো না পৌঁছালে এলাকার সামাজিক-শিক্ষাগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই প্রতিবেদন করা পর্যন্ত জেলা বা মোবাইল অপারেটর সূত্রে ফারুকে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও টাওয়ার স্থাপনের কোনো চূড়ান্ত সময়সূচি পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা আশা করছেন দ্রুত কোনো বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে রাঙ্গামাটির এই দূর্গম জনপদও ডিজিটাল বাংলাদেশের এক অংশ হিসেবে সমান সুযোগ পায়।
রিপোর্টার: রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি, WE NEWS