জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানের পরিসংখ্যান ও উদ্ধারসংগ্রহ
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএমের নির্দেশনায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে মোট ২৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে কোতয়ালী (সদর), কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি ও কাউখালী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মাদকসেবী, মাদক কারবারি ও সিআর/জিআর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্যসহ দেশীয় প্রস্তুত চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ও উদ্ধারসংক্রান্ত বিস্তারিত
কোতয়ালী থানার পৃথক অভিযানে মোট ১৬ জন গ্রেফতার করা হয়। সেখানে মাদক সেবনের অভিযোগে ১১ জন এবং মাদকের সঙ্গে গ্রেফতার তিনজনসহ সিআর ওয়ারেন্টভুক্ত দুইজনকে আটকের মধ্যে আনা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে শনাক্তযোগ্য নামের তালিকায় রয়েছে মো. মোর্শেদ আলম (২৮), মো. নুর হোসেন (২১), মো. এনামুল কবির (২৮), জয় চন্দ্র (২৯) প্রমুখ।
| থানা | গ্রেফতার (জন) | বিবরণীয় উদ্ধার |
|---|---|---|
| কোতয়ালী | ১৬ | মাদক সেবন ও মাদকসহ গ্রেফতার |
| কাপ্তাই | ১ | জিআর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি |
| বাঘাইছড়ি | ১ | ২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার |
| কাউখালী | ৭ | ৫০ গ্রাম গাঁজা, ৬ লিটার ৭৫০ মিলি চোলাই মদ, একটি সিএনজি অটোরিকশা |
অভিযানকালে উদ্ধার করা মোট মাদকদ্রব্য: ৭০ গ্রাম গাঁজা এবং ৬ লিটার ৭৫০ মিলিলিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ। কাউখালী থানা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
চেকপোস্ট ও ট্রাফিক তল্লাশি
জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। মোট ১৩টি স্থানে ২৩টি চেকপোস্ট পরিচালনার মাধ্যমে ২৯০টি গাড়ি এবং ৩৭৪টি মোটরসাইকেল তল্লাশি করা হয়েছে। অভিযানকালে কিছু যানবাহন আটক ও বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।
- আটক করা মোটরসাইকেল: ২২টি
- আটক সিএনজি: ১২টি
- আটক মিনি ট্রাক: ১টি
- বিবিধের বিরুদ্ধে মামলা বা প্রসিকিউশন: মোট ১৮টি মোটরসাইকেল, ৭টি সিএনজি ও ১টি মিনি ট্রাক
প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় প্রভাব
রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও চেকপোস্ট কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক এই অভিযানের ফলে শহর ও উপজেলায় অনুপস্থিত বা আচ্ছন্ন লোকেশনে মাদক-বাণিজ্য সংক্রান্ত কড়া বার্তা প্রেরণ হয়েছে। তবে একই সঙ্গে স্থানীয়রা বলছেন, অপরাধ দমন অভিযান ধারাবাহিক রাখতে বাড়তি পুলিশি উপস্থিতি ও সমন্বিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন যাতে পরবর্তী সময়ে অপরাধ পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
অভিযান থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গ্রেফতারদের মধ্যে কজন সুনির্দিষ্ট ওয়ারেন্টভুক্ত থাকলেও বেশ কয়েকজনকে মাদক সেবনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। পুলিশের বলেও জানা গেছে, উদ্ধার করা গাঁজা ও দেশীয় মদ বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তি পর্যায়ে সেবনের জন্য রাখা ছিল—তাই আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ অভিযান রাঙ্গামাটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া এক ধাপ বলে পুলিশ বরাবরই জানিয়ে আসছে; তবে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা, পুনর্বাসন ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করাও দরকার বলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা রায় দিয়েছেন।
রাঙ্গামাটির শ্রেণি-বিভিন্ন জনএজেন্সি ও সাধারণ পেশাজীবীদের কাছে এই অভিযানের ফলাফল স্বস্তির হলেও, দীর্ঘমেয়াদিভাবে অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে।
রিপোর্ট: রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি, WE NEWS