রাঙামাটির জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে স্থানীয় সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীসহ দুজনকে আটকের মাধ্যমে সাদা গাড়িতে তুলে নিয়ে ঢাকা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে আসা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি দল বৃহস্পতিবার সকালে কাপ্তাই-রাঙামাটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে—উদ্দেশ্য ছিল ঢাকায় দায়ের করা সাইবার সিকিউরিটির মামলায় রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমন-কে গ্রেপ্তার করা।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
স্থানীয় সময় দুপুরে সুমনকে ধরতে গেলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক সৈকত রঞ্জনের সঙ্গে ডিবি পুলিশের কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এরপর অভিযোগ করা হচ্ছে, সুমন ও সৈকত—দু’জনকেই একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে ঢাকার পথে রওনা দেয়া হয়। রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব এই অভিযানের মধ্যে ডিবি পুলিশের সদস্য থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
“সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পুলিশ ছিল,”
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, সৈকত রঞ্জনের নামে ঢাকায় সাইবার আইনে একটি মামলা আছে এবং তাকে ঢাকার ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। এই বিবৃতি স্থানীয়ভাবে অভিযুক্ত ও গ্রেপ্তারের আইনি দিকটি তুলে ধরে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সাংবাদিক এবং সুশিল সমাজের অংশীরা এ ধরনের গ্রেপ্তারকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। সাংবাদিকদের কাজের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা বজায় রাখা সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করছে। যদিও পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দাবি—অভিযানের সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সাংবাদিককে আটকে নেওয়া হয়েছে, যা সংবাদপ্রাপ্তির স্বাধীনতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
- আহত/গ্রেপ্তার: আলী আকবর সুমন (ছাত্রদল নেতা), সৈকত রঞ্জন চৌধুরী (সাংবাদিক) সহ আরো এক ব্যক্তি।
- অভিযানকারী: ঢাকার ডিবি দলের সদস্যরা (সাদা পোশাকে)।
- অবস্থান: রাঙামাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ।
- বর্তমান অবস্থা: অভিযানে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বহনকারী সাদা মাইক্রোবাসটি ঢাকার দিকে রওনা দিয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আইনি প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
ওসি জসিম উদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, সৈকত রঞ্জনের বিরুদ্ধে ঢাকায় সাইবার আইনে মামলা রয়েছে এবং এজন্য তাঁকে ডিবি গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। মামলা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য—যেমন অভিযোগের ধরণ, মামলা নথির কপি বা গ্রেপ্তারের নোটিশ—এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। সাধারণত এমন গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের হেফাজতে নেয়া ও স্থানান্তর সংক্রান্ত নথি, গ্রেপ্তারের কারণ ও আদালতে উপস্থাপনার সময়সীমা আইনগতভাবে প্রশ্নের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
| বিষয় | উল্লেখিত তথ্য |
|---|---|
| আক্ষরিক স্থান | রাঙামাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ |
| গ্রেপ্তার করা ব্যক্তি | আলী আকবর সুমন, সৈকত রঞ্জন চৌধুরী এবং একজন অনান্য |
| অভিযানকারীরা | ঢাকা থেকে আসা ডিবি পুলিশ (সাদা পোশাকে) |
| বর্তমান অবস্থান | সাদা মাইক্রোবাসটি ঢাকার পথে |
জনস্বার্থ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা
স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা সম্পর্কিত ধারাগুলো মানা অত্যান্ত জরুরি। অভিযানের সময় সাংবাদিক উপস্থিত থাকলেও রিপোর্টিং বা তথ্য সংগ্রহের কাজ করতে বাধা দিলে তা পেশাগত স্বাধীনতায় নীতিগত সমস্যা তৈরি করে। রাঙামাটিতে এই ঘটনার পর স্থানীয় গণমাধ্যমে উদ্বেগ নেমে এসেছে—তারা পুলিশের কাছে দ্রুত স্বচ্ছ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যার দাবি করবে বলে জানিয়েছে।
এই ঘটনার পরবর্তী বিবর্তন নজরদারিতে রাখা হবে; জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ডিবি যে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি উৎপাদন করলে সেই তথ্যও সংগ্রহ করা হবে এবং পাঠকদের জানানো হবে। এই প্রতিবেদনে জিজ্ঞাসাবাদ করা পুলিশের প্রাথমিক মন্তব্য এবং স্থানীয় থানার ওসির বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
রাঙামাটিতে স্থানীয় সংবাদ পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন উঠেছে—বিশেষত যখন অভিযান এলাকায় সাংবাদিক উপস্থিত থাকেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি উঠবে বলে স্থানীয় পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টার: অংশুমান চাকমা, রাঙামাটি প্রতিনিধি, WE NEWS