রাঙামাটিতে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ডিবিসি টেলিভিশনের রাঙামাটি প্রতিনিধি ও রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে আটক করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমনও আটক হয়েছেন।
কীভাবে ঘটল — ঘটনার রূপরেখা
- দুপুর ২টার পর জেলা পরিষদ চত্বর থেকে প্রথমে আলী আকবর সুমনকে আটক করা হয় এবং একটি সাদা মাইক্রোবাসে তোলা হয়।
- আড়াইটার দিকে সৈকত রঞ্জন মটরসাইকেলযোগে জেলা পরিষদ চত্বরে আসেন; তোরণের সামনে কয়েক মিনিট কথা বলার পর তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
- এরপর মাইক্রোবাসটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক করার দায়িত্ব নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিএমপি)। তিনি বলেন, তাদেরকে যথাযথ আইনগত পদ্ধতি অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছে। তবে আর্থিক বা অন্যান্য অভিযোগের বিস্তারিত তিনি পরিবারের সঙ্গে বা সংবাদকর্মীদের জানাননি।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও প্রেক্ষাপট
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—
| নাম | চাকরি/পদ | আটকের স্থান ও সময় |
|---|---|---|
| সৈকত রঞ্জন চৌধুরী | ডিবিসি টিভির রাঙামাটি প্রতিনিধি; রাঙামাটির সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক | জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ, দুপুর আড়াইটার দিকে |
| আলী আকবর সুমন | জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক | জেলা পরিষদ চত্বর, দুপুর ২টার পর |
আটকজনদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে বেশি কিছু বলা হয়নি। সৈকত রঞ্জনের স্ত্রীর দেয়া ফোনালাপের বিবরণ সংবাদকর্মীদের কাছে পৌঁছেছে—তিনি সন্ধ্যা পৌণে সাতটার দিকে স্বামীর সাথে কথা বলেছেন।
“তিনি বলেছিলেন, তিনি ভালো আছেন এবং একটি কাজে ঢাকায় যাচ্ছেন। চিন্তা না করতে বলেছেন। এরপর ফোন ধরেননি।”
এ কথাটি জানা গেছে সৈকত রঞ্জনের স্ত্রী তুষি বড়ুয়া কর্তৃক দেয়া বিবরণ থেকে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে পরে ফোন করলে ধরেননি এবং সময় হলে স্বামী নিজে ফোন করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।
সাংবাদিক সম্প্রদায় ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
রাঙামাটির সাংবাদিক মহলে এগুলো উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একজন সাংবাদিক আটক হলে স্থানীয় সংবাদ পরিবেশন ও তথ্যপ্রবাহে প্রভাব পড়তে পারে—এমন ভাবনা আছে। জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও স্বাধীনতা-সংক্রান্ত সংগঠনগুলো সাধারণত এমন ঘটনার ব্যাপারে দ্রুত তথ্য ও পরিস্থিতি জানার দাবি জানায়; তবে এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কোন অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া আমরা সংগ্রহ করতে সক্ষম হইনি।
আইনি ব্যাখ্যা ছাড়া ও অপরিহার্য তথ্য না জানিয়ে কোনো সাংবাদিককে বহিরাগত গোয়েন্দা বাহিনী যখন স্থানীয় এলাকায় নিয়ে যায়, তখন তা জায়গীয়ভাবে ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। স্থায়ীভাবে তথ্য উপাত্ত না থাকলে অনুমান করা কঠিন, তাই পুলিশের ও ডিএমপির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা অপেক্ষা করা হচ্ছে।
পরবর্তী প্রক্রিয়া ও আইনি অবস্থা
পুলিশ সুপারের বক্তব্য থেকে জানা যায় যে আটক ব্যক্তি“যথাযথ আইন অনুসরণ করে” নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কোর্টে তাদের হাজির করা হয়েছে কি না, কি অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যভাবে কোনো নথি প্রদান করা হয়নি। পরিবারের সদস্য ও দাবি-দাওয়াকারীরা দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি তথ্য জানার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এই প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের জন্য কিছু ব্যবহারিক তথ্য:
- আটক সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য পেতে জেলা পুলিশ বা ডিএমপির অফিসে লিখিতভাবে তথ্য দাবি করা যেতে পারে।
- পরিবারের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করে তাদের আইনগত অধিকার সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।
- সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থা যোগাযোগ করে প্রতি পদক্ষেপে স্বচ্ছতা দাবি করতে পারে।
ঘটনার পরবর্তী আপডেট পাওয়া মাত্র WE NEWS পাঠকদের জানানো হবে। এ সময় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সাংবাদিক স্বাধীনতা সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।
রিপোর্টার: অংশুমান চাকমা, রাঙামাটি প্রতিনিধি, WE NEWS