রাঙামাটির সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের মানিকছড়ি আর্মিক্যাম্পের সামনে রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে একটি পিকআপ উল্টে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ মোট চারজন মারা গেছেন। এই দুর্ঘটনায় চালকসহ আরও দুজন গুরুতর আহত রয়েছেন।
ঘটনার পরিস্থিতি ও আহতদের অবস্থা
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, পুরোনো একটি পিকআপে কুতুকছড়ি বাজার থেকে কাঁচা সবজি ও তরকারি সংগ্রহ করে রাঙামাটি শহর থেকে ফিরে যাওয়ার পথে তারা ছিলেন। পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে পিকআপটি সড়কে উলটে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম নেওয়ার পথে আরও একজন মারা যান।
- নিহত: মেঘরানী চাকমা (৪৫), শান্তনা চাকমা (৩৮), শান্তি রঞ্জন চাকমা (৬৫) ও শোভা চাকমা (৫২)।
- আহত: পিকআপ চালক জ্ঞা বিকাশ চাকমা (৫০) ও সুমন চাকমা (৪৫)।
- দুর্ঘটনার স্থান: মানিকছড়ি আর্মিক্যাম্পের সামনে, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক।
প্রাথমিক পুলিশি ব্যবস্থা ও ময়নাতদন্ত
রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত চারজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। চালকসহ আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির পর তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পুলিশ জানিয়েছে।
“দুর্ঘটনার আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্তপত্র তৈরি করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রভাব ও সামাজিক প্রসঙ্গ
ঘটনার দিন কুতুকছড়িতে সাপ্তাহিক হাট ছিল; নিহতরা হাট থেকে কাঁচা পণ্য সংগ্রহ করে ফিরছিলেন। সাপ্তাহিক হাটগুলোর সঙ্গে জড়িত গ্রামীণ অর্থনীতি, পথ পরিবহন ব্যবস্থা ও গাড়ির স্বাস্থ্যগত অবস্থা এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রস্তুত কারণ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত বলে স্থানীয়রা মনে করেন। পুরোনো যানবাহন চালু রেখে যাত্রী পরিবহন, অতিরিক্ত ভাড়া কিংবা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব—এসব বিষয় ইতিমধ্যেই স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
| আইটেম | বিস্তারিত |
|---|---|
| স্থান | মানিকছড়ি আর্মিক্যাম্পের সামনে, সাপছড়ি ইউনিয়ন |
| মৃতের সংখ্যা | ৪ |
| আহত | ২ (চালকসহ) |
| গাড়ি অবস্থা | পুরোনো পিকআপ, জব্দ করা হয়েছে |
স্থানীয় ব্যক্তি ও কিছু পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাপ্তাহিক বাজারের দিন এসব যাত্রী সাধারণত একই গাড়িতে একত্রে ভ্রমণ করেন। রাস্তায় যানবাহনের ত্রুটি বা চালকের অসতর্কতার কারণে এমন দূর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও এ ধরনের গুরুতর ফলাফল কমই প্রত্যাশিত।
পরবর্তী করণীয়
রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশ জানায়। আইনানুগ তদন্ত শেষে দায়িত্বপ্রতিষ্ঠান ঘটনার কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সড়ক নিরাপত্তা, যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষিত চালকের প্রয়োজনীয়তা স্থানীয় প্রশাসন ও সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে তুলতে হবে।
এই ঘটনার প্রভাব স্থানীয় মানুষের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসন কর্তৃক তৎপরতা বাড়ানো না হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্ট চলতেই থাকবে।
রিপোর্টার: রাঙামাটি প্রতিনিধি, WE NEWS