রাঙামাটিতে জেলা প্রতিনিধি ও রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হকের সভাপতিত্বে এবং রাঙামাটি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিশু দে’র সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে কট্টর ব্যাক্তিবর্গ, পেশাজীবী এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে।
মানববন্ধনের বক্তব্য ও সহমত
মানববন্ধনে বক্তারা শিল্পপঞ্জি ও সংবাদপেশার মৌলিক অধিকার এবং সংবাদ পরিবেশের গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রাঙামাটি জেলা ও অন্যান্য রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন থেকেই উপস্থিতরা সংহতি প্রকাশ করেন। বক্তারা জানান, সৈকত রঞ্জন কেবল সাংবাদিক নন, তিনি স্থানীয় সমাজকর্মী হিসেবেও পরিচিত।
“সৈকত রঞ্জন চৌধুরী কেবল একজন পেশাদার সাংবাদিক নন, তিনি একজন সক্রিয় সমাজকর্মীও।”
উক্ত বক্তৃতাটির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন যে, গত মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা পরিষদের সামনে থেকে তাকে কোনও পরোয়ানা বা গ্রেপ্তার ওয়ারেন্ট ছাড়া তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ সুপারের মাধ্যমে জানা যায়, তাকে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের এ কার্যক্রমকে বক্তারা সংবাদপত্রিক স্বাধীনতার ওপর ন্যূনতম হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তা বরন করেন না বলে জানান।
স্থানীয় সংগঠনের দাবি ও পরবর্তী করণীয়
মানববন্ধনে অংশ নেয়া সংগঠনগুলো নিরাপদ সাংবাদিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন রঞ্জন চৌধুরীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তেরও অনুরোধ জানায়। রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা, সুজনের জেলা সম্পাদক এম জিসান বখতেয়ারসহ অন্যান্য বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের পর আশানুরূপ পরিবেশ প্রত্যাশা করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তা ব্যহারিত হচ্ছে।
- প্রধান দাবি: সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর নিঃশর্ত মুক্তি
- দ্বিতীয়ত: সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ
- তৃতীয়ত: গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের দাবি
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
| ঘটনা | উল্লেখ্য |
|---|---|
| মঙ্গলবার দুপুরে আটক | রাঙামাটি জেলা পরিষদ চত্বর থেকে — দাবি করা হয় কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই |
| প্রায় দুই ঘণ্টা পর জানা যায় | পুলিশ সুপারের মাধ্যমে তাকে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তুলে নিয়েছে বলে জানা যায় |
| বুধবার | আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী তাকে একটি সাইবার মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে |
| বৃহস্পতিবার | জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় |
মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাঙামাটি জেলা ইউনিট ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘসহ অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও তাদের সমর্থন জানান। বক্তারা পুলিশের আচরণকে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
রাঙামাটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সম্প্রতি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হঠাৎ গ্রেপ্তার ও জড়িত থাকার অভিযোগ স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। উপস্থিত সাংবাদিকরা জানিয়েছেন তারা ভয়ভীতিহীন পরিবেশে সংবাদ করতে আগ্রহী। এই মানববন্ধনকে তারা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখেন যাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বচ্ছ ও মানবিক আচরণ বজায় রাখে।
স্থানীয় পাঠকদের জন্য এ ঘটনাটি কেবল একটি ব্যক্তিগত গ্রেপ্তার-জটিলতা নয়; এটি রাঙ্গামাটির সংবাদ পরিবেশ, তথ্যপ্রবাহ ও নাগরিক অধিকার—এই তিনটির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শহরের সাংবাদিক সমাজ ও নাগরিক অধিব্যক্তিগণ এই ঘটনার তদন্ত ও ফলাফল সম্পর্কে সজাগভাবে নজর রাখছেন।
রাঙামাটির ক্ষেত্রে সাংবাদিক স্বাধীনতা ও স্থানীয় জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির পথে যে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে তা প্রতিরোধ করাও এখন স্থানীয় সংস্কৃতি ও গণতন্ত্র রক্ষার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দাঁড়িয়েছে।