রাঙামাটিতে কোতোয়ালী থানার আয়োজনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই তৎপরতায় শহরের রিজার্ভবাজার, শহীদ মিনার, মাঝেরবস্তি ও তবলছড়ি এলাকায় কেন্দ্র করে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান ও নেতৃত্ব
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন-এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল অভিযান চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানটি ছিল সন্ত্রাস দমন ও মাদকবিরোধী—দুইটি উদ্দেশ্যকে মিলিয়ে পরিকল্পিত।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও অভিযোগ
অভিযানে গ্রেপ্তাররা বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে বেশিরভাগকে মাদক সেবন বা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এছাড়া পৃথক অভিযানে সিআর (ক্রাইম রেকর্ড) ওয়ারেন্টভুক্ত দুই জনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
- প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তার সংখ্যা: ১৬ জন
- অভিযানকাল: ১৭ আগস্ট, সকাল থেকে
- অভিযানকৃত এলাকা: রিজার্ভবাজার, শহীদ মিনার, মাঝেরবস্তি, তবলছড়ি
গ্রেপ্তারদের তালিকা ও বয়সবর্ণনা নিচের টেবিলে দেওয়া হলো—
| ক্রমিক | নাম | বয়স (বছর) | অভিযোগ |
|---|---|---|---|
| ১ | মোর্শেদ আলম | ২৮ | মাদক সেবন/মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার |
| ২ | নুর হোসেন | ২১ | মাদক সেবন |
| ৩ | এনামুল কবির | ২৮ | মাদক সেবন |
| ৪ | জয় চন্দ্র | ২৯ | মাদক সেবন |
| ৫ | নাহিদ হাসান সজিব প্রধান | ২৯ | মাদক সেবন |
| ৬ | সোহেল ওরফে কালা | ৪৩ | মাদক সংশ্লিষ্ট |
| ৭ | মোমিন উদ্দিন ওরফে মুন্না | ৩২ | মাদক সেবন |
| ৮ | ওমর ফারুক | ৪৩ | মাদক সংশ্লিষ্ট |
| ৯ | সাইদুল ইসলাম | ৪০ | মাদক সেবন |
| ১০ | মেহেদী | ৩০ | মাদক সেবন |
| ১১ | সাগর | ২৮ | মাদক সেবন |
| ১২ | সালাম | ২৫ | মাদকসহ গ্রেফতার |
| ১৩ | অর্নব ত্রিপুরা | ২৯ | মাদকসহ গ্রেফতার |
| ১৪ | অজয় ত্রিপুরা | ২৪ | মাদকসহ গ্রেফতার |
| ১৫ | মো. আমজাদ হোসেন | ২৭ | সিআর ওয়ারেন্টভুক্ত |
| ১৬ | শ্যামলা দাশ | ১৯ | সিআর ওয়ারেন্টভুক্ত |
পুলিশের মন্তব্য
“গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পর তাদের সবাইকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
ওসি মো. জসীম উদ্দীন ওই কথা বলেন—পুলিশি ব্যাখ্যা অনুযায়ী দ্রুত সময়ে অপরাধ দমন ও সকল ধরনের গড়াগড়ি রোধে এমন কার্যক্রম চলবে।
প্রাসঙ্গিক প্রভাব ও পরিস্থিতি
রাঙ্গামাটি শহরে নিয়মিতভাবে মাদক ও সহিংসতা বিরোধী অভিযান পরিচালনা করার পেছনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষদের উদ্বেগ আছে। মাদক সেবন ও ব্যবসা কেবল অপরাধ বাড়ায় না, বরং যুবসমাজের শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন ও পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলেই পুলিশ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে—এই দৃষ্টিকোণটিও স্থানীয় প্রশাসন বারবার তুলে ধরে এসেছে।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অংশে মোবাইল ন্যায় ব্যক্তি কেলেঙ্কারি ও মাদকগ্রস্ত অবস্থায় ভুল কাজের প্রবণতা বেড়েছে বলে তারা উদ্বিগ্ন। পুলিশের বিশেষ টিমের এই তৎপরতা কিছুটা শান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে বলে প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
আগাম সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী ধাপ
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া চালানো হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া থানার পক্ষ থেকে পুনরায় এলাকাভিত্তিক নিরীক্ষা ও সম্প্রদায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
রাঙ্গামাটি থেকে জেলা প্রতিবেদন পাঠানোর সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। বিস্তারিত মামলা নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতের মাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা অনুসারে পরবর্তী সংবাদ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।