খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের ১১তম অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের নবনীত নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা রোববার (৩০ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আনুষ্ঠানিকতা ও উপস্থিতি
পরিষদ কর্তৃপক্ষ নানান আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী। জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংলামং চৌধুরীর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ।
চেয়ারম্যানের বক্তব্য
“খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান নয়। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কল্যাণে এই পরিষদ কাজ করবে,”
এমনটি বলেছেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা। তিনি পরিষদের কাজকে দলগত সীমার বাইরে নিয়ে যেতে চান বলেও জানান এবং জেলার মানুষকে উন্নয়ন ও সেবায় অগ্রাধিকার দিতেন উদ্দ্যেশ্য পরিষদকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার ওপর জোর দিয়েছেন।
অগ্রাধিকার নিশ্চয়ের প্রতিশ্রুতি
চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা বলেন, তিনি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। সভায় তিনি পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। উল্লেখযোগ্যভাবে তিনি পরিষদের কাজকে সমন্বিতভাবে করার জন্য সদস্যদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কৃষি-সহ স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
- পরিষদের কাজকে দলীয় সীমার বাইরে নিয়ে জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
- জেলার শান্তি, সম্প্রীতি বজায় রাখা ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
নির্বাচিত সদস্যদের ঘোষণা ও প্রতিজ্ঞা
অনুষ্ঠানে নতুন অন্তর্বর্তী পরিষদের সদস্যরা নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের অঙ্গীকার করেন এবং পরিষদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সদস্যরা—এমএন আবছার, খনি রঞ্জন ত্রিপুরা, রুমেল মারমা, ক্ষেত্রমোহন রোয়াজা, রিপল চাকমা ও তাসলিমা সিরাজ সিমা। অন্য উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন মোশারফ হোসেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেকম মিন্টু ও রুবেল মারমা।
| পদবী | নাম |
|---|---|
| চেয়ারম্যান | ম্রাসা থোয়াই মারমা |
| মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা | মো. ইলিয়াস মেহেদী |
| নির্বাহী কর্মকর্তা | আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ |
স্থানীয় প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ খাগড়াছড়ির সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে উঠে আসে পরিষদের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের উঠতি সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা।
চেয়ারম্যান মর্মে রাখা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, পরিষদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবার গুণগত মান উন্নত করা—এই তিনটি বিষয় নজরকাড়ার হবে বলে পরিষদের নেতারা পুনরায় জোর দেন। সর্বস্থরের সহযোগিতা পেলে পরিষদের কার্যক্রম দ্রুত গতিশীল করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
নতুন কমিটির কার্যক্রম কবে থেকে শুরু হবে, বিশেষ কোন নীতিমালা বা প্রকল্প চালু করা হবে—এসব নিয়ে বিস্তারিত আলাপ বা সিদ্ধান্তের তথ্য এখনও অফিসিয়ালি জানানো হয়নি; তবে ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য নিকটবর্তী সময়ে কার্যক্রম ও পরিকল্পনা সম্পর্কিত পরবর্তী সভা আহ্বানের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।