খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্য, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ হিসেবে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রকৃতি’ শিরোনামের বই। বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোড়ক উন্মোচন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া।
উদ্যোগ ও প্রকাশনা
বইটি প্রকাশ করেছে বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন সোসাইটি অব সিএইচটি। প্রকাশনা বরাতে বিপুল সংখ্যক নিবন্ধ ও আলোকচিত্র রয়েছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কিত সচেতনতা গঠনে সহায়ক হবে—এটিই আয়োজকদের উদ্দেশ্য। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী সবুজ চাকমা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।
অতিথি ও বক্তব্য
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়াস মেহেদী, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, অতিরিক্ত সুপার মিজানুর রহমান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা এবং পরিবেশবিদ রাসেল। বক্তারা দেশের জীববৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বন উজাড় ও পাহাড় ধ্বসের মতো কাজে কঠোর অসন্তোষ প্রকাশ করে তা বন্ধে কড়াকড়ি দেখানোর আহ্বান জানান।
কেন এই প্রকাশনা প্রয়োজন?
বক্তারা উল্লেখ করেছেন, দেশের মোট জীববৈচিত্র্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে কেন্দ্রভিত্তিকভাবে রয়েছে। এই প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে বন উজাড়, অবৈধ কাঠকাটা ও পাহাড় কাটার ফলে বাস্তুতন্ত্র বিপন্ন হচ্ছে—যার প্রভাব স্থানীয় জীবনযাত্রা, কৃষি ও জলাধার নষ্ট হওয়া পর্যন্ত বিস্তার পেতে পারে। ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও প্রশাসনকে মিলিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই বইটির মূল লক্ষ্য বলেই আয়োজকরা জানান।
বইয়ের বিষয়বস্তু ও সম্ভাব্য কার্যকারিতা
প্রকাশিত বইটিতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রবন্ধের পাশাপাশি স্থানীয় সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য তুলে ধরা আলোকচিত্রও স্থান পেয়েছে। আয়োজকরা বলেন,esta বইটি স্কুল-কলেজ পর্যায়ের পাঠ ও স্থানীয় পরিবেশগত কর্মসূচির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করলে তা পরিবেশ-শিক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবে।
- উদ্দেশ্য: সচেতনতা সৃষ্টি ও স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় অনুধাবন বাড়ানো
- মুখ্য বার্তা: বন উজাড় ও পাহাড় কাটা বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া
- লক্ষ্য পাঠক: স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী ও পরিবেশবান্ধব গ্রুপ
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ
খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বহু এলাকা জনবহুল নয়, ফলে ভুল বুঝাবুঝি এবং উন্নয়ন-চাহিদার কারণে প্রাকৃতিক বনভূমির ওপর চাপ বাড়ছে। বক্তারা আশংকা করেন, যদি সময়োচিত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে শুধু বন-জীববৈচিত্রই নষ্ট হবে না, বরং মাটি ও জলাধারের ধারাবাহিক ক্ষতিও হবে—যা শেষ পর্যায়ে স্থানীয় কৃষি ও জীবন-জীবিকার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয় কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য ধারা
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধিরা পরামর্শ দিয়েছেন—সাংবাদিকতা, স্কুল-ভিত্তিক কার্যক্রম এবং স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে বইটির বিষয়বস্তুকে কার্যকরভাবে ছোঁয়া যেতে পারে। এছাড়া বনবিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে করণীয় তালিকা প্রণয়নের পরামর্শ রাখা হয়।
উপসংহার
বইটির মোড়ক উন্মোচনকে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির একটি সূচনাবিন্দু হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও একটি বইই সমগ্র সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, তা হলেও সঠিক দিশা ও সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকাশনা ও কর্মশালার ধারা অব্যাহত থাকবে যাতে স্থানীয় মানুষ নিজেদের পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে।
| আয়োজক | প্রধান অতিথি | অধিকাংশ বক্তা |
|---|---|---|
| বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন সোসাইটি অব সিএইচটি | ওয়াদুদ ভূইয়া (স্থানীয় সংসদ সদস্য) | জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ ও বন বিভাগ সংশ্লিষ্টরা |