খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার পার্কে পর্যটকদের জন্য নতুন তিনটি বিনোদন ব্যবস্থা—জিপলাইন, জায়ান্ট সুইং এবং শিশুদের জন্য কিডস জোন—উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে এসব সুবিধা উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়া।
স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়া বলেন, “পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নতুন নতুন বিনোদনের ব্যবস্থা যুক্ত হলে খাগড়াছড়ির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে স্থানীয় নেতৃত্ব পর্যটন খাতকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়াছ মেহেদীও অনুষ্ঠানে বলেন যে পার্কে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে এই সুবিধাসমূহ স্থাপন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও নতুন স্থাপনা যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে। জেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্টদের এই প্রস্তাবিত কাজগুলো বাস্তবে রূপ পেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিষেবা খাত—খাবার, ট্রান্সপোর্ট, গাইড ও খুচরাপণ্যের বিক্রেতাদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কারা ছিলেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়াছ মেহেদী, নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহফুজ, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমা এবং হর্টিকালচার পার্কের সহকারী হর্টিকালচার কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরাসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ইলিয়াছ মেহেদী সভায় জানিয়েছেন যে পার্কে পর্যটন খাতকে আরও আকর্ষণীয় করতে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের নতুন স্থাপনা বা ব্যাবস্থা নেয়া যাবে, সেই বিষয়ে কাজ চলছে। পরিষ্কার করা হয়নি ঠিক কি পরিসরের উন্নয়ন করা হবে বা বাজেটের উৎস কোথা থেকে আসছে; তবে পরিকল্পনা থাকাই একটি সূচক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের জন্য কি সুবিধা?
নতুন এসব বিনোদনসামগ্রীর সঙ্গে পার্কে ভ্রমণকারীর সংখ্যা বাড়লে প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হওয়া যেতে পারে—খাবারদাবার, স্মৃতি চিহ্ন বিক্রয়, গাড়ি ভাড়া, গাইড পরিষেবা ইত্যাদি। একই সঙ্গে পার্কের নিয়ামক ও রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা, কাস্টমার সার্ভিসের জন্য কর্মী দরকার হবে। তবে কতজন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বা সেই কর্মসংস্থানের ধরণ সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জেলা পরিষদ বা অনুষ্ঠানস্থল থেকে প্রকাশ করা হয়নি।
- নতুন সুবিধা: জিপলাইন, জায়ান্ট সুইং, কিডস জোন
- উদ্বোধন করেছেন: সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়া
- প্রধান বাস্তঁবায়ন সংস্থা: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ
“পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নতুন নতুন বিনোদনের ব্যবস্থা যুক্ত হলে খাগড়াছড়ির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।” — ওয়াদুদ ভুঁইয়া
প্রবণতা ও আশংকা
স্বল্প-মধ্যম মেয়াদে পর্যটন আকর্ষণ বাড়লে অর্থনৈতিক গতি বাড়বে—এই যুক্তি সাধারণত বৈধ। তবে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পর্যটক সেবা, নিরাপত্তা, পরিবহন সংযোগ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ততা সমান্তরালে বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে জিপলাইন ও জায়ান্ট সুইংয়ের মতো অ্যাকটিভিটি চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মানদণ্ড ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বজায় রাখা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা পরিষদের bundan বাহিনীকে এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও মান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিতে হবে।
অন্যদিকে, কেবল আকর্ষণ বাড়ালেই পর্যটক বাড়বে না; পর্যটন-প্রচার, সুলভ ভাড়া, এবং মৌসুমভিত্তিক খোলার সময় নির্ধারণ করাও প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করলে সুবিধাজনক হবে।
সংক্ষেপে
হর্টিকালচার পার্কে নতুন বিনোদনসংযোজন স্থানীয় পর্যটনকে জীবন্ত করার সম্ভাবনা রাখে। তবে টেকসই প্রভাব আনতে পরিষ্কার বাস্তবায়ন কৌশল, নিরাপত্তা-বিধি ও স্থানীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জেলা পরিষদের ঘোষিত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত জানালে বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করা সহজ হবে।
| বিষয় | স্থিতি |
|---|---|
| উদ্বোধক | ওয়াদুদ ভুঁইয়া (সাংসদ) |
| প্রতিষ্ঠান | খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ |
| নতুন সুবিধা | জিপলাইন, জায়ান্ট সুইং, কিডস জোন |