শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবগঠিত চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা ও পরিষদের ১৪ জন সদস্যকে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানটি জেলা শহরের একটি স্থানীয় সভা ঘরেই অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান ও সিদ্ধান্ত
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা বলেন,
“খাগড়াছড়ি পার্বত্য পরিষদ জেলার গণমানুষের কল্যাণে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে চাই। পরিষদের দায়িত্ব জনগণের আমানত। জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করবো।”
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একজন সদস্য, এম এন আবছার বলেন,
“নতুন পরিষদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনগণের দোরগোড়ায় পরিষদের সেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করে যাব।”
আরেক সদস্য মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে বলেন,
“পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমঅধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্যের সমন্বিত প্রচেষ্টায় খাগড়াছড়িকে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।”
দলের মন্তব্য ও উপস্থিতি
সদর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং নবগঠিত জেলা পরিষদকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
- নবগঠিত পরিষদ ফুলচাপা পাঠালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্যে জেলা পরিষদের নবগঠিত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
- সংবর্ধনায় সভাপতিত্ব ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে নতুন পরিষদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দেওয়া হয়।
- উপজেলা বিএনপি নেতারা পরিষদের সফলতা কামনা করেন এবং গুরুত্বারোপ করেন—স্থানীয় উন্নয়নে সকলকেই একসাথে কাজ করতে হবে।
খাগড়াছড়ির প্রশাসন ও নাগরিকদের প্রত্যাশা
জেলা পরিষদের নবগঠন স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। স্থানীয় পর্যায়ে পরিষদগুলোর সিদ্ধান্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই কর্মকাণ্ডের ফলে উদ্ভূত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কবে ও কীভাবে কার্যকর হবে—এই প্রশ্নে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও প্রত্যাশা রয়েছে।
| বিষয় | উক্তি / নির্দেশনা |
|---|---|
| প্রধান ঘোষণা | দলমত অবলম্বন ছাড়িয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করা |
| আগ্রহের ক্ষেত্র | শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন |
| গুণগত নিশ্চয়তা | স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা |
সংবর্ধনার পর জেলা পরিষদের সদস্যরা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে ইতিমধ্যে কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে জানা গেছে।
খাগড়াছড়িতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক জোরদার রাখার জন্য এই ধরনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সাধারণত স্থানীয় সমর্থক ও নেতৃবৃন্দের মধ্যে ঐক্য দৃঢ় করে। তবে নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সরকারী বিভাগের নজরে আনা প্রয়োজন যে—নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রয়েছে কি না এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে কি না।
সংক্ষেপে, জেলা বিএনপির এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নবগঠিত পরিষদের শপথ ও প্রতিশ্রুতিগুলো প্রধান আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল; এখন তা বাস্তবে রূপ নিতে কবে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে—এ বিষয়টি স্থানীয় জনগণের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে।