খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুই ধরনের বিনামূল্যের কারিগরি প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করা হয়েছে। সার্বিক লক্ষ্য ছিল দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা জোরদার করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিসর
প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান, পিএসসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শ্যামল আগষ্টিন রোজারিও। খাগড়াছড়ি জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আশ্রাফুল কবিরসহ শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণের ধরন ও অংশগ্রহণ
আয়োজকরা জানান, মোট ৫০ জন নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের প্রধান দুইটি বিষয় হলো:
- ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন ও মেইনটেন্যান্স — বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন, সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত
- মোবাইল ফোন সার্ভিসিং — যন্ত্রাংশ শনাক্তকরণ, ত্রুটি নির্ণয় ও মেরামত
| বিষয় | প্রধান দক্ষতা | অংশগ্রহণকারী সংখ্যা |
|---|---|---|
| ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন ও মেইনটেন্যান্স | সংযোগ স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত | 50 |
| মোবাইল ফোন সার্ভিসিং | যন্ত্রাংশ শনাক্তকরণ, ত্রুটি নির্ণয়, মেরামত |
উদ্যোগের প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাশা
আয়োজকরা বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়—দীর্ঘমেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন ও সুসংহত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই মূল লক্ষ্য। জেলা কিংবা কেন্দ্র থেকে প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়ায় পাহাড়ি এলাকার অনেক তরুণ-তরুণী বাইরে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পান না। তাই স্থানীয়ভাবে বিনামূল্যে এই ধরনের প্রশিক্ষণ তাঁদের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।
প্রশিক্ষণার্থীরা সংবাদকর্মীদের জানান যে, নিজ এলাকায় প্রশিক্ষণ পাওয়ায় তাদের উপকার হবে এবং প্রাপ্ত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা চাকরি, আত্মকর্মসংস্থান অথবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। একজন শিক্ষার্থী জানান যে দুর্গম অঞ্চলে থেকেও বেসিক কারিগরি দক্ষতা অর্জন সম্ভব হলে পরিবারের আর্থিক অবস্থা উন্নত হবে বলে আশা করছেন অনেকেই।
প্রশিক্ষণের সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয় প্রশাসন ও সামগ্রিক সমাজ উন্নয়নে এমন উদ্যোগের কয়েকটি প্রত্যক্ষ প্রভাব প্রত্যাশা করা হচ্ছে:
- পাহাড়ি যুবসমাজের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরতা
- স্থানীয় পর্যায়ে ছোট ব্যবসা ও সার্ভিস সেক্টরের গঠন
- দূরত্বজনিত বাধা কাটিয়ে বেকারত্ব কমানো
আয়োজকরা আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদে দক্ষতা-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি যদি পর্যাপ্ত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রশিক্ষক ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান সংযোগ পায়, তাহলে এটি পাহাড়ি এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভেতরের চাহিদা মেটাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও চাহিদা
এই প্রথম পর্যায়ে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষা দেয়া হবে—তবে এর গতিশীলতা ধরে রাখার জন্য প্রশিক্ষণ শেষে পর্যবেক্ষণ, চাকরি সংযোগ ও অল্পোর্ধ উদ্যোগে সহায়তার প্রয়োজন থাকবে। স্থানীয় শিক্ষা ও শ্রম সংক্রান্ত সংস্থা, আত্মকর্মসংস্থান কার্যক্রম এবং বেসরকারি অংশীদারদের সাথে সমন্বয় বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে স্থানীয় পর্যায়ে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি অঞ্চলে বেতার কিংবা অনলাইন প্রশিক্ষণ নেয়ার চ্যালেঞ্জ থাকলেও, স্থলভিত্তিক এই ধরনের প্রশিক্ষণ সরাসরি সমস্যার সমাধান হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপ স্থানীয়দের জন্য এক ধরণের সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করেছে—যা কিভাবে কাজে লাগানো হবে তা নির্ভর করবে পরবর্তী বাস্তবায়ন ও স্থানীয় সমর্থনের ওপর।