বাগেরহাটের ফকিরহাটে খেজুর খাওয়ার পরে সাধারণত ফেলে দেওয়া বীজই এখন কাপে ওঠছে। হাওলাদার মোহাম্মদ আলী স্থানীয় পর্যায়ে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে খেজুর বীজ থেকে কফি তৈরি করে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলছেন, ইউটিউবে দেখেছিলাম খেজুর বীজ দিয়ে কফি তৈরির একটি ভিডিও, সেটি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজ উদ্যোগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উৎপাদন শুরু করেছি।
উৎপাদন প্রক্রিয়া ও বিনিয়োগ
উদ্যোক্তা জানালেন, প্রায় ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ক্ষুদ্র পরিসরে উৎপাদন চালু করেন। প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পাঁচজন শ্রমিক রয়েছেন, যারা প্রতিদিন খেজুরের বীজ সংগ্রহ, পরিষ্কার, শুকানো, ভাজা, গুঁড়া করা ও প্যাকেটজাতকরণের কাজে নিয়োজিত। উৎপাদন প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে তিনি বলেন:
“খেজুরের মৌসুমে কাঁদি কিনে বীজ সংগ্রহ করা হয়। পরে বীজ ধুয়ে পরিষ্কার করে খোসা ছাড়িয়ে রোদে শুকানো হয়। এরপর বালির সঙ্গে কড়াইয়ে নির্দিষ্ট সময় ভেজে মেশিনে গুঁড়া করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয় না।”
বাজার প্রতিক্রিয়া ও বিক্রয়
স্থানীয় বাজারে তার তৈরি খেজুর বীজের কফি ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে। উদ্যোক্তা বলেছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকার কফি বিক্রি হয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন ক্রেতা আসছেন। ভবিষ্যতে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ও বিদেশেও পণ্যটি পাঠানোর পরিকল্পনা রাখেন।
- লোকাল ও কৃষিজাত উপকরণ ব্যবহার করে মূল্য সংযোজন
- ক্ষুদ্র বিনিয়োগে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি
- রাসায়নিকবিহীন প্রক্রিয়া—অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও গ্রাহকরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন
স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনের মতামত
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বললেন, প্রথমে বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও কফি খাওয়ার পর স্বাদ ও ঘ্রাণে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন এবং এখন এলাকার অনেকেই আগ্রহ নিয়ে এটি কিনছেন। নিয়মিত কফিপানকারী কাওসার আহমেদ ব্যক্তিগতভাবে কিছু উপকার অনুভব করলেও স্বাস্থ্যগত কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে তিনি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দাবি করেননি—এটি উদ্যোক্তাও স্বীকার করেছেন।
কর্মসংস্থানের দিকটি তুলে ধরে উৎপাদনে নিয়োজিত শ্রমিক মামুন শেখ বলেন, এই উদ্যোগের ফলে কয়েকজনের স্থায়ী বা মৌসুমী কাজ হয়েছে এবং তারা বাড়তি আয় করতে পারছেন।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বিষয়টি উদ্ভাবনী উদ্যোগ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি বলেন, খেজুর বীজ সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়—সেটি ব্যবহার করে মূল্য সংযোজনমূলক পণ্য তৈরি করা স্থানীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, খেজুর বীজের কফির স্বাস্থ্যগত উপকার নিশ্চিত করতে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | ফকিরহাট, বাগেরহাট |
| উদ্যোক্তা | হাওলাদার মোহাম্মদ আলী |
| প্রাথমিক বিনিয়োগ | ২৫ হাজার টাকা (প্রায়) |
| বর্তমান বিক্রি | প্রায় ২০ হাজার টাকা |
| নিযুক্ত শ্রমিক | ৫ জন |
উদ্যোগটি বাগেরহাটের জন্য একটি ছোট কিন্তু লক্ষ্যণীয় উদাহরণ—কিভাবে স্থানীয় কাঁচামাল থেকে নতুন পণ্য বানিয়ে অর্থ উপার্জনের পথ তৈরি করা যায়। তবে প্রকৃত সম্ভাবনা ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা বোঝার জন্য সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ, গুণগত গবেষণা এবং বৃহত্তর বাজার পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যদি প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গবেষণার সুযোগ দেয়, তাহলে এই ধরনের উদ্যোগগুলো আরও স্থায়ীভাবে সম্প্রসারিত হতে পারে, বলে মনে করছেন অনেকে।