বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বাগেরহাট পৌরসভায় ভৈরব নদীর পানিকে পরিশোধন করে সরবরাহের উদ্দেশ্যে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। কেটে গেছে প্রায় চার বছর; ওই সময় থেকে প্লান্টটি পুরোপুরি অচল পড়ে আছে।
প্রকল্পের লক্ষ্য ও বর্তমান অবস্থা
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে বাগেরহাট পৌরসভার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল এই পানি সরবরাহ প্রকল্প। প্রকল্প অনুযায়ী ভৈরব নদ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি এনে পচাঁদীঘিতে সংরক্ষণ করা হতো, পরে আধুনিক ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পরিশোধন করে ওভারহেড ট্যাংকের মাধ্যমে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে।
কিন্তু বাস্তবে স্থাপনাকাজ শেষ হয়ে ২০২১ সালের জুনে কয়েক মাস পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করা হলেও পরে পৌরসভাকে হস্তান্তরের পর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। যাচাইয়ে দেখা গেছে—বিস্তীর্ণ অবকাঠামো, ওভারহেড ট্যাংক, পাম্প হাউস ও ট্রীটমেন্ট ইউনিট দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত। নানা যন্ত্রাংশে মরিচা দেখা যাচ্ছে এবং রিজার্ভারের ঢাকনা, মোটর, ফ্যানসহ বেশ কয়েকটি মূল্যবান উপাদান চুরি হয়েছে।
পৌরবাসীর দৈনন্দিন দুর্ভোগ
প্রকল্পটি বন্ধ থাকায় সরাসরি দুর্ভোগে পড়েছেন পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন ভোরে অনেককে কলসি, বালতি ও ড্রামে পানি সংগ্রহ করতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বাসিন্দারা বলছেন, অনেক এলাকায় পাঁচ-ছয় দিন পরপরই পানি আসে, তাও অল্প সময়ের জন্য—ফলে পানি এলেই হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
- প্রতিদিন সকাল থেকেই নামতেই হয় পানির জন্য অপেক্ষা;
- পানি না পেলে রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া ও শিশুকে স্কুলে পাঠানোও কষ্টকর হচ্ছে;
- বিশেষভাবে দুর্ভোগে পড়ছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা।
“প্রকল্পটি চালু থাকলে পৌরবাসী নিয়মিত নিরাপদ পানি পেতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায়… ”
এই মন্তব্য করেছে প্রকল্পের এক পাম্প অপারেটর মতিয়ার রহমান মল্লিক, যিনি দীর্ঘদিন প্রকল্প এলাকায় কাজ করেছেন।
সরকারি সম্পদের অবক্ষয় ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব
জায়গায় গেলে দেখা যায়, বড় ওভারহেড ট্যাংক, পাম্প হাউস ও ট্রিটমেন্ট ইউনিট ব্যবহার না হওয়ায় দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ করা না হওয়ায় বহু যন্ত্রপাতি অপর্যাপ্তভাবে সংরক্ষিত থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং চোরাই-চক্রে মূল্যবান অংশ হারিয়ে যাচ্ছে—এটি সরকারি অর্থের ব্যর্থ ব্যবহারের প্রশ্ন তুলছে।
স্থানীয়দের কথায়, প্রকল্পটি বাস্তবে কার্যবহ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রদত্ত বাজেটের তুলনায় কাজের কার্যকারিতা ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শূন্যে নামছে। প্রকল্পটি পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া পৌরসভার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কেন কার্যকর সমন্বয় করতে ব্যর্থ হল—এটি এখন স্থানীয় প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সামনে বড় প্রশ্ন।
সমাধানের দিকে সম্ভাব্য আলোচনা
এমন পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে যা প্রয়োজন— দ্রুত এক্টা তত্ত্বাবধান-ভিত্তিক তদন্ত করে চুরি ও অবহেলার দায় নির্ধারণ এবং দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া। অধিকন্তু স্থানীয় জনগণের জন্য অল্পস্থায়ী সরবরাহ ব্যবস্থা ও পানির মান পরীক্ষা করে তা নিশ্চিত করা জরুরি।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্প ব্যয় | প্রায় ৪০ কোটি টাকা |
| নির্মাণকাল | ২০২০-২১ অর্থবছরে নির্মাণ, ২০২১ সালের জুনে কাজ শেষ |
| বর্তমান অবস্থা | প্রায় চার বছর ধরে অচল, যন্ত্রাংশ নষ্ট ও কিছু চুরি |
স্থানীয়রা আশা করছে—পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। পানির মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধা বহু মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রাখে; তাই প্রকল্পটি পুনরায় কার্যকর করা না হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কমবে না।
এই রিপোর্টে যখন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল, স্থানীয়রা জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলে বলেন—সরকারি অর্থে নির্মিত কোনো প্রকল্পই অকার্যকর ও অনিরাপদভাবে পরিত্যক্ত হয়ে থাকা চলে না।