পটুয়াখালীর কালীকাপুর ইউনিয়নের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকার ভাড়া বাসার একটি অফিস ভেঙে যাওয়া প্রতারণার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। অভিযোগ, ‘সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ লেখা ব্যানার ঝোলিয়ে মঙ্গলবার ওই বাড়িতে কার্যক্রম চালু করে প্রতিষ্ঠানের লোকজন। তারা এলাকার মানুষজনকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার পর নির্ধারিত সময়ে টাকা দিতে না এসে অফিস বন্ধ করে চলে যায়।
ঘটনার সূত্রপাত ও ক্ষতিগ্রস্থদের দাবি
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানের লোকজন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা জানায়, এক লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে ১১ হাজার টাকা করে সঞ্চয় জমা দিলে ঋণ ব্যবস্থা করা হবে। এসব কথা শুনে অনেকে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ঋণের টাকা নিতে এসে প্রায় ৩০ জন গ্রাহক অফিস বন্ধ দেখতে পান। পরে বিষয়টি বাড়ির মালিকের কাছে জানালে সেখানে থাকা লোকদের আর দেখা-মেলে না।
এক ভুক্তভোগী বলেন,
“আমাদের বলা হয়েছিল বুধবার দুপুর ৩টার দিকে ঋণের টাকা দেওয়া হবে। তাই নির্ধারিত সময়ে আমরা অফিসে আসি। এসে দেখি অফিস বন্ধ। যাদের কাছে টাকা দিয়েছি, তাদের কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না।”
আরেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, তারা অফিসেই বসেই টাকা দিয়েছেন এবং সেখানে ল্যাপটপ, বিভিন্ন কাগজপত্র, টেবিল-চেয়ার ছাড়াও অফিস সাজানো ছিল। ভাড়া বাড়ির মালিকের ছেলে সোহাগ জানান, ওই লোকজন গতকাল ভাড়াটিয়াদেরূপে বাসায় আসে; কোনো অগ্রিম টাকা দেয়নি এবং ভোটার আইডির কপিও জমা দেয়নি।
প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও যাচাই-কাঠামো
অফিসের ব্যানারে উল্লিখিত ছিল ‘সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’—রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০৪৩৯/১৯৯০ এবং পাশে লেখা ছিল ‘আর্থিক সহযোগিতায় পিকেএসএফ’। স্থানীয়রা এই তথ্য দেখেই সংস্থার পরিচয়ে আস্থা করে টাকা দিয়েছেন। তবে ব্যানারে থাকা নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও পিকেএসএফের সহায়তার সত্যতা সঙ্গতভাবে যতক্ষণ না নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করে ততক্ষণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে তারা আসলেই অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ছিল কি না।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে প্রতিবেদক জানতে পেরেছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও কল রিসিভ করা হয়নি। ফলে তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা যায়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি বা বেসরকারি কর্তৃপক্ষের থেকেও এখনো কোনো প্রতিশ্রুত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও আশঙ্কা
- ভুক্তভোগীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক টানাপোড়েনের কথা বলেছেন।
- অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে অর্থসংক্রান্ত লেনদেনে এ ধরনের ভুয়া অফিস বা মোড়ক হয়ে এমন প্রতারণার ঘটনা বাড়তে পারে।
- স্থানীয়রা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এবং দ্রুত তদন্ত ও টাকার সন্ধান দাবি করেছেন।
ভাড়া বাড়ির মালিক মাওলানা জাফর খানের ছেলে সোহাগ জানান, “গতকাল ওই লোকজন আমাদের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে আসে। তারা কোনো অগ্রিম টাকা দেয়নি। কয়েকটি টেবিল-চেয়ার এনে অফিসের মতো করে সাজিয়েছিল। এর বেশি তাদের বিষয়ে আমরা জানতাম না। আজ দুপুরে শুনি, তারা মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সমস্যায় ফেলেছে।”
স্থানীয় প্রশাসন ও তদন্ত—পরবর্তী করণীয়
এ ঘটনায় স্থানীয় দূরত্বে তৎপর হতে হবে—প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ তদন্ত শুরু করা উচিত। এছাড়া ব্যানারে থাকা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও পিকেএসএফ নামের সহায়তার দাবি যাচাই করে দেখা দরকার যে বাস্তবে ওই সংস্থার কোন পূর্ব নিবন্ধন বা অনুমোদন আছে কি না।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অবস্থান | কালীকাপুর ইউনিয়ন, হেতালিয়া বাঁধঘাট, পটুয়াখালী |
| সংস্থার নাম (ব্যানার) | সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা |
| রেজিস্ট্রেশন নম্বর | ০৪৩৯/১৯৯০ |
| ভুক্তভোগী সংখ্যা (প্রায়) | ৩০ জন |
| প্রতিশ্রুত ঋণ | ১,০০,০০০ টাকা (প্রতিটি ক্ষেত্রে শর্ত ভিন্ন) |
এ মুহূর্তে ঘটনার সাথে জড়িতদের বক্তব্য নেয়া না যাওয়ায় বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদন আপডেট করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তরা যদি দ্রুত অনলাইন-দলিল, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ-আশ্রয় সংক্রান্ত বাতিলে বা স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ করেন, তবেই দ্রুত তদন্ত শুরু করে তাদের টাকা উদ্ধারের সম্ভাবনা শেস্ত করা যেতে পারে।
পটুয়াখালী থেকে প্রতিবেদন করছে — সঞ্জয় মজুমদার।