পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় একটি মাদরাসার কিশোরী ছাত্রীকে তার নিজ বাড়িতেই ঢুকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা শিমুল হাওলাদার-এর বিরুদ্ধে। পরিবারের বয়ানের সময় জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে।
পরিবারের বয়ান ও স্থানীয় চাপ
ভুক্তভোগীর মা জানান, ঘটনার সময় তিনি পাশের বাড়িতে ছিলেন এবং তার স্বামীও বাইরে ছিলেন। ‘‘আমার ছোট মেয়ে ঘরে বসে মোবাইল ফোন দেখছিল। ওই সময়ে শিমুল হাওলাদার ঘরে ঢুকে আমার মেয়েকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। ফলে মেয়ে চিৎকার করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে,’’ তিনি বলেন। পরিবারটি জানান, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সালিস মীমাংসার মাধ্যমে চাপ দিয়ে মিটিয়ে দিতে বলা হয়। দরিদ্র হয়েই তারা প্রথমে স্থানীয় নেতাদের কথায় বাধ্য হন।
ঘটনার পর পুলিশে যাওয়া ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পর—২৪ আগস্ট—এ বিষয়ে লোকালয়ে বিষয়টি জানাজানি হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের একজন সদস্য ২৩ আগস্ট কলাপাড়া থানায় গেলে ওসিকে অভিযোগ জানান, তবে লিখিত অভিযোগ দেননি। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘থানায় আসার পর আমরা অভিযোগ দিতে বলেছি। কিন্তু ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দেননি। অভিযোগ দায়ের করা হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান বলেছেন, ‘‘দরিদ্র পরিবারটির পাশে থেকে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’’
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগের ব্যাপকতা
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিমুলের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক নারীঘটিত অভিযোগ থাকলেও তার ক্ষমতার ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পায়নি। পরিবারের কথায়, স্থানীয় সালিসে বিষয় চাপা পড়ার চেষ্টা হলে তারা নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের আশঙ্কায় প্রশাসনের সহায়তা চান।
- ঘটনার সময়: গত বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ১০টা (পরিবৃত্ত সূত্র অনুযায়ী)
- জানাজানি হওয়া: ২৪ আগস্ট স্থানীয়ভাবে বিষয়টি প্রকাশ পায়
- পুলিশে জানানো: ২৩ আগস্ট পরিবারের একজন সদস্য থানায় গেলে, লিখিত অভিযোগ এখনও দায়ের হয়নি
| তারিখ / সময় | ক্রিয়াকলাপ |
|---|---|
| গত বৃহস্পতিবার, সকাল ≈ ১০:৩০ | ভুক্তভোগীকে বাড়িতে ঢুকে নিপীড়নের চেষ্টা করা হয় (পরিবারের অভিযোগ) |
| ২৩ আগস্ট | পরিবারের একজন সদস্য কলাপাড়া থানায় জানিয়েছেন; লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি |
| ২৪ আগস্ট | স্থানীয়ভাবে ঘটনা প্রকাশ পায়; সালিস চাপের অভিযোগ উঠেছে |
পরবর্তী করণীয় ও স্থানীয় জরুরি বিষয়
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, লিখিত অভিযোগ পেলে তারা যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে সামাজিক বাস্তবতা ও দরিদ্র পরিবারের ভয়ের কারণে অভিযোগ দাখিল না করাকে একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তাত্ক্ষণিকভাবে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ জরুরি:
- ভুক্তভোগী ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান।
- পুলিশি তদন্ত দ্রুত আরোপ ও লিখিত অভিযোগ না থাকলেও তদন্ত-অনুসন্ধানে স্থানীয় সদ্য প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা।
- স্কুল-মাদরাসা পর্যায়ে শিশুদের সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি এবং পরিবারকে আইনি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান।
এই ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিমুল হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয়ভাবে বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। একটি পক্ষ আমাকে ফাঁসাতে চাইছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা আছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন।’’ পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন দাবি করেছেন, অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সালিস ও প্রভাবশালী ব্যক্তির ভয়ে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়া নয়—তাই প্রমাণ, সাক্ষী সংগ্রহ ও সংবেদনশীল তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিরূপণ করতে হবে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া কমিউনিটিতে এ ধরনের অভিযোগ পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও পরিবারগুলোর প্রতি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ সংবাদের প্রকাশের সময় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিক মামলা বা গ্রেপ্তার সংক্রান্ত কোনো তথ্যও স্থানীয় থানার বাইরে পাওয়া যায়নি।