পটুয়াখালীর কেন্দ্রীয় শহরে শনিবার এক সৌদি প্রবাসী স্বামীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ অধিকার ফাউন্ডেশন–এর জেলা শাখা। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী স্বামী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় তিনি প্রায় দুই বছর ধরে উপার্জিত অর্থ স্ত্রী ফারজানা আক্তার মিম নামে স্ত্রীকে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন। পরে তিনি দাবি করেন, ওই অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করে স্ত্রী এক রুহুল আমিন নামে ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে চলে যায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও ইতিবাচক আইনগত পদক্ষেপ
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর পুলিশ ও আদালত কার্যক্রমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয় এবং রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ঘটনার জটিলতা আরও বাড়ে—ভুক্তভোগীর কথায়, তার স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ তাকে আটক করে। তিনি ১৩ দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান এবং মুক্তির পরই তার বিরুদ্ধে যৌতুক সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়, যা ভুক্তভোগী ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন, যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে একপক্ষীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো ঠিক নয়; ঘটনা উন্মোচনে নিরপেক্ষ ও সার্বিক তদন্ত জরুরি। তারা প্রবাসীদের উপার্জিত অর্থ ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মিথ্যা মামলা দায়ে সেলে কড়া হতে নাগরিক অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
“মিথ্যা ও হয়রানিমূলক”
স্থানে উপস্থিত নেতাদের বক্তব্য ও দাবি
মানববন্ধনে অংশ নেন বাংলাদেশ পুরুষ অধিকার ফাউন্ডেশনের পটুয়াখালী জেলা শাখার নেতাকর্মীরা। তারা দাবি করে, ভুক্তভোগীর মামলাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা দ্রুত উদঘাটিত হবে এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবি তোলা হয়।
স্থানীয় প্রভাব ও সামাজিক প্রসঙ্গ
পটুয়াখালী অঞ্চলে প্রবাসী জনসাধারণের অনিশ্চিততায় এমন অভিযোগ সামাজিক উদ্বেগ বাড়ায়। প্রবাসী পরিবারগুলোতে আইনি ও আর্থিক নিরাপত্তার অভাব বিবেচনায় এনে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ—পরিবার, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন—এ ধরনের ঘটনার প্রতি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেছেন, প্রবাসীদের উপার্জন পরিবার ও এলাকার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; তাই এ ধরনের বিতর্ক সমাজে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।
আইনি বাস্তবতা ও সাংবাদিকের অনুরোধ
এই প্রতিবেদন প্রস্তুতকালে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত স্ত্রী ফারজানা আক্তার মিম ও রুহুল আমিনের বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকাশিত অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি। যে কোনো ঘটনার ন্যায্য সূত্র বের করতে পুলিশের তদন্ত, আদালতের বিবেচনা এবং নিরপেক্ষ প্রামাণ্য দলিল-দেখার ওপর নির্ভর করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন কার্যকরী সংস্থার তদন্তকে গুরুত্ব দিতে হবে যাতে অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায়।
ভুক্তভোগীর দাবি ও স্থানীয় কর্মসূচি
মানববন্ধনে উপস্থাপিত দাবিসমূহের সারমর্ম নিম্নরূপ:
- নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন।
- আত্মসাত হওয়া অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার।
- অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ।
এ ঘোরতর সামাজিক ও আইনি সমস্যার প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা আরও বলেছেন, প্রবাসীরা যাতে অনায়াসে তাদের উপার্জিত অর্থ পাঠাতে পারেন, সে জন্য প্রতিটি ট্রানজেকশনে স্বচ্ছতা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
| ঘটনা | অ্যাকশন/অবস্থা |
|---|---|
| অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার পাঠানো ও আত্মসাৎ অভিযোগ | ভুক্তভোগী কর্তৃক মানববন্ধন; তদন্ত দাবি |
| রুহুল আমিন গ্রেপ্তার | ওয়ারেন্ট জারি ও গ্রেপ্তার (সূত্র অনুযায়ী) |
| স্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা | ১৩ দিন সময় সাংঘাতিক কারাগার, পরে জামিন; মামলাকে ভুক্তভোগী মিথ্যা দাবি করেন |
এ বিষয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মন্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের বক্তব্য পেলে পরবর্তীতে তা পাঠকদের জানানো হবে।
সংবাদদাতা: সঞ্জয় মজুমদার, পটুয়াখালী প্রতিনিধি, WE NEWS