পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপসারণের দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচি উপজেলা পরিষদের সামনে "ছাত্র ও জনগণ" ব্যানারে করা হয়েছিল।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, দায়িত্ব পালন নিয়ে অবহেলা হয়েছে এবং ফ্যামিলি কার্ডের প্রক্রিয়ায় পক্ষপাত হয়েছে। এ অভিযোগগুলো তুলে ধরে তারা ইউএনওকে চাকরি থেকে অপসারণ ও তদন্ত দাবি করেন।
অভিযোগের সারমর্ম ও প্রতিক্রিয়া
মানববন্ধনে উপস্থিত কয়েক জন বক্তার অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ ছিল—
- মাদকবিরোধী কার্যক্রমে তৎপর কার্যকর পদক্ষেপের অভাব।
- দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও বিভিন্ন অনিয়ম।
- ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে; কোনো গ্রুপ বা পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় এক জুলাই যোদ্ধা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ইউএনওর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থার অভাব লক্ষ্য করা যায়। অপর মহিলা জুলাই যোদ্ধা শারমিন আক্তার স্বর্ণা মানববন্ধনে বলেন ইউএনওকে চূড়ান্তভাবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
“ইউএনওকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনি স্বেচ্ছায় উপজেলা থেকে চলে না গেলে আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।”
মানববন্ধনে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী আবু রাফি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী পরিবারের লোকজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে স্কুল-কলেজের অনেক মেধাবী ও দরদামী ছাত্রছাত্রী পিছিয়ে পড়ছেন—তিনি বলেন, এ অনিয়মের প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি করেছেন।
কর্মসূচি ও দাবি
মানববন্ধন শেষ করে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিলও করে যা উপজেলা পরিষদ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। মূলত তারা নিম্নলিখিত কয়েকটি দাবি তুলেছেন:
- ইউএনওর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ তদন্ত।
- জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ইউএনওকে সাময়িক কর্মকর্তা বদলি বা অপসারণ করা।
- ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
বিক্ষোভ থেকে দাবি করা হয় যে তদন্তে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং অপরাধী সদস্যদের সনাক্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইউএনওর প্রতিক্রিয়া নেই
বিক্ষোভে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম কোনো বক্তব্য ক্যামেরার সামনে দিতে রাজি হননি—এ বিষয়ে তাঁদের সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
| প্রতিটি অভিযোগ | মানববন্ধনে তুলা দাবির প্রকৃতি |
|---|---|
| মাদক প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই | উপজেলা পর্যায়ে তৎপরতা বৃদ্ধি ও তদন্ত |
| দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়ম | স্বতন্ত্র তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা |
| ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে পক্ষপাত | শুমারি পুনর্মূল্যায়ন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া |
স্থানীয় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেও অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, দাবিগুলি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে। মানববন্ধন ও মিছিলে মূলত শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ অংশ নেয়—যারা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি mistrust (অবিশ্বাস) ও অস্থিরতা প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে যে কোনো তদন্ত বা পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে এখনও জেলা প্রশাসন বা বিভাগীয় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলেন, তারা চাইন—পরিষ্কার ও দ্রুত ব্যবস্থা যেন গ্রহণ করা হয়।
পটুয়াখালী জেলা থেকে পাঠানো এই প্রতিবেদন অনুসারে, মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্থানীয় জনজীবন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত; এজন্য প্রশাসনিক অনুসন্ধান ও স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সমাজের জন্য জরুরি বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদন: সঞ্জয় মজুমদার, পটুয়াখালী প্রতিনিধি