ঝালকাঠি: ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফার) দিলীপ কুমার শীল-কে বহিরাগত লোক দিয়ে এক্স-রে করানোর অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে। হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো: মাসুম ইফতেখার স্বাক্ষরিত নোটিশে অভিযুক্তের কাছে তিন কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সময়রেখা ও উৎস
হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রকাশিত হওয়ার পর তা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, বহিরাগত ব্যক্তি দিয়ে কাজ করানো সরকারী কর্মচারী বিধিমালার ২(অ) ও ২(আ) এর মধ্যে অসদাচরণের অন্তর্ভুক্ত।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। অভিযুক্তকে শোকজ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে,’
এই বক্তব্যটি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো: মাসুম ইফতেখার উদ্দ্বৃত থেকে নেওয়া। প্রকাশিত নোটিশে তিনি দাবি করেন, হাসপাতালের নিয়মানুযায়ী নির্ধারিত কর্মচারী ছাড়া অন্যকে সরাসরি চিকিৎসাসেবা প্রদান করানো মানা।
অভিযোগকারীর ও অভিযুক্তের মন্তব্য
অভিযোগের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিযুক্ত রেডিওগ্রাফার দিলীপ কুমার শীল বলেন,
‘জি, আমাকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের কাগজ হাতে পেয়েছি। যথাসময়ের মধ্যে জবাব দেবো।’
অভিযোগকারী পক্ষে সরাসরি কোনো বিবৃতি সংবাদ সূত্রে পাওয়া যায়নি; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য-ভাবেই সংবাদ সূত্রে বিষয়টি উঠে এসেছে।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল জেলার অন্যতম প্রধান সরকারি হাসপাতাল। এক্স-রে সেবা সরবরাহে অপেশাদার হস্তক্ষেপ রোগীর সঠিক চিকিৎসা নির্ণয় প্রভাবিত করতে পারে এবং রেডিয়েশন সুরক্ষা আইনের দিক থেকেও প্রশ্ন ওঠে। হাসপাতালের কর্মপ্রকৃতিতে নিয়মিতভাবে আনুষঙ্গিক প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত প্রযুক্তিগত তত্ত্বাবধানের ওপর নির্ভর করে সেবা নিরাপদ রাখা সম্ভব।
- অভিযোগ ভিত্তিক তদন্ত হলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও রোগীর নমুনা পরীক্ষা-রিপোর্ট ব্যবহৃত হবে।
- নোটিশে তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব না পেলে কোন ধরণের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে হাসপাতাল নোটিশে নির্দেশ রেখেছে।
- শহরের জনগণ ও রোগীরা হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করতে পারেন।
আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য ধারা
সরকারি কর্মচারী বিধিমালা-২(অ) ও ২(আ) উল্লেখ থাকায় এটি প্রশাসনিক দন্ড-নিষেধের আওতায় পড়তে পারে। নোটিশ পাওয়ার পরে অভিযুক্তকে প্রতিকারমূলক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে; ব্যাখ্যা গ্রহণের পর তদন্ত কমিটি গঠিত হলে তা তদন্ত করতে পারে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে জরিমানা, সতর্কতা, স্থগিতাদেশ কিংবা চাকরিচ্যুতিসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে—তবে নোটিশে এ ধরনের ফলাফল সম্পর্কে বিশেষ কোনো সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়নি।
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| অভিযোগ সূত্র | সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি/তথ্য প্রকাশ |
| নোটিশ জারি তারিখ | ১৮ আগস্ট |
| অভিযুক্ত | দিলীপ কুমার শীল, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফার) |
| প্রতিবাদী সময়সীমা | ৩ কর্মদিবস |
রোগী ও জনস্বার্থ—পরবর্তী করণীয়
এ ধরনের অভিযোগে রোগীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা ও চিকিৎসা-নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য জানতে চান। প্রশাসনকে রোগীর রেকর্ড, এক্স-রে ইমেজ ও তদারকি নথি সরবরাহ করে দ্রুত তদন্ত পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানো দরকার যাতে হাসপাতালে অনুমোদনবিহীন কেউ সেবা না দেয় এবং রোগীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সঠিক তথ্য রাখে।
হাসপাতাল থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও ফলাফল জানানো না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ ও শোকজ নোটিশের ব্যতিক্রমী দিকগুলো প্রযোজ্য থাকবে। জনস্বাস্থ্য ও রোগীর নিরাপত্তা মুল্যায়নে এই ঘটনার ফলাফল জনমনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।