মন্ত্রণালয় কর্তৃক নতুন আদেশ ও কার্যকারিতা
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জিপি‑পিপি শাখা মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন আদালতে নিয়োগ আদেশ বাতিল করে নতুনভাবে একাধিক সরকারি আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়োগগুলি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে এবং নতুন আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্তরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখযোগ্য নিয়োগ
প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিতভাবে নির্ধারিত হয়েছে যে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) পদে অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল খালেক এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) পদে অ্যাডভোকেট মো. মারুফ সারোয়ার বাবু নিয়োগপ্রাপ্ত। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ট্রাইব্যুনাল ও পারিবারিক আদালতের জন্য আলাদা নিয়োগ করা হয়েছে।
- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল—পিপি: অ্যাডভোকেট মুন্সি মো. শাহাজাহান মুকুল
- শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল—পিপি: আ স ম আবদুর রউফ
- পারিবারিক আপিল আদালত—অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি: অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান বদি; অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর: অ্যাডভোকেট সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত ও সহকারী নিয়োগ
জেলা জজ আদালতে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন অ্যাডভোকেট এস এম আসাদুজ্জামান গনি সালাম ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ হেদায়েত হোসেন আসলাম। দায়রা জজ আদালতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—
- অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম‑১
- অ্যাডভোকেট এস এন এ হাসেমী
- অ্যাডভোকেট মো. আহসান আলী
- অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলা
- অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মজিদ
- অ্যাডভোকেট মোছা. আফরোজা আক্তার
জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন অ্যাডভোকেট মো. আলী হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এরশাদ, অ্যাডভোকেট মো. জামাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট এস এম হুমায়ুন কবীর ও অ্যাডভোকেট মোছা. সেলিনা খাতুন।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) তালিকা
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ১৮ জন আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত। তাদের মধ্যে নামগুলো নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | নাম |
|---|---|
| 1 | মো. মঈন উদ্দীন (মঈনুল) |
| 2 | মো. মানজার আলী জোয়ার্দ্দার (হেলাল) |
| 3 | এস এম সাইদুজ্জামান গনি টোটন |
| 4 | মো. জিলুর রহমান জালাল |
| 5 | মো. আসাদুজ্জামান মিল্টন |
| 6 | মো. মাসুদুর রহমান |
| 7 | মো. ফারজ আলী |
| 8 | মো. মশিউর রহমান পারভেজ |
| 9 | মোছা. রুবিনা পারভীন রুমা |
| 10 | মো. শাহাজামাল জামাল |
| 11 | মো. জহুরুল ইসলাম |
| 12 | মো. হাসানুজ্জামান |
| 13 | মো. আশরাফুল হক উজ্জ্বল |
| 14 | মো. শাহরিয়ার নেওয়াজ অতি |
| 15 | মো. আবদুস সালাম মুক্তা |
| 16 | মো. আতিয়ার রহমান-২ |
| 17 | মো. ওহিদুজ্জামান মুকুল |
| 18 | মেহেদী হাসান নয়ন |
“নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে,”
অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব
আদালতে নতুন সরকারি কৌঁসুলি ও প্রসিকিউটর নিয়োগে মামলা পরিচালনা, রাষ্ট্র পক্ষের উপস্থাপন এবং বিচার কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব পড়বে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা কবে থেকে কার্যত তদন্ত বা প্রসিকিউশনে অংশগ্রহণ শুরু করবেন এবং বিদ্যমান কেসগুলোর ওপর তাদের কর্তৃত্ব কিভাবে প্রয়োগ হবে—এ সম্পর্কে স্থানীয় আদালত কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মহল থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনটি আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত। প্রজ্ঞাপনের কথ্য অংশে বলা হয়েছে, আদেশ পুনর্বিবেচনা বা নতুন কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থানীয় আইন সংশ্লিষ্টরা এবং আদালত পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নিয়োগের ফলে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ও সরকারের পক্ষ থেকে মামলার সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সুবিধা হবে—তবে বাস্তবে এটি কিভাবে প্রভাব ফেলবে তা দেখা বাকি।