অপরাধ চুয়াডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গা (56)

চুয়াডাঙ্গায় বিষমিশ্রিত বীজ ছড়িয়ে ২৯ পাখি নিহত: বন বিভাগে মামলা

দামুড়হুদায় ফসলি জমিতে বিষ মিশ্রিত বীজ ছড়িয়ে ২৯টি পাখি মারা যাওয়ার ঘটনায় বন বিভাগ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে বাবা ও ছেলের নামে মামলা করেছে। নিহত পাখির আর্থিক মূল্য কয়েক হাজার হলেও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি দুই লাখ টাকার বেশি ধরা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় বিষমিশ্রিত বীজ ছড়িয়ে ২৯ পাখি নিহত: বন বিভাগে মামলা
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

ঘটনা ও তদন্তের প্রাথমিক হিসাব

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় গত ১৫ আগস্ট রাতে একটি ফসলি জমিতে বীজের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ছড়িয়ে রাখার ঘটনায় ২৯টি পাখি নিহত হয়েছে। প্রাণহানির ঘটনায় সোমবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা আদালতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দাগানো হয় এবং অভিযুক্ত হিসেবে বাবা ও ছেলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় ওই বিষযুক্ত বীজ ছড়ানো হয় বলে বন বিভাগ জানায়। পরের সকালে এলাকাবাসী ও মাঠপর্যবেক্ষণে রাজধানী প্রজাতির পাখি—টিলা ঘুঘু, চড়ুই ও কবুতর—মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত পাখির মধ্যে ২৪টি তিলা ঘুঘু, তিনটি চড়ুই ও দু’টি কবুতর রয়েছে।

অভিযান ও মামলা

ঘটনার পরে ১৬ আগস্ট বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: শাহিন আলমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে বিষাক্ত বীজ ও মৃত পাখি জব্দ করা হয় এবং আলামত তালিকা তৈরি করা হয়। অভিযানকালে মূল অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান পালিয়ে গেলেও তার ছেলে মো: রাজন উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটকে পাখি শিকারে সাহায্য করার কথা স্বীকার করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করে।

এরপর দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী মামলা দায়ের করেন। বন বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত পাখিগুলোর বাজারমূল্য আনুমানিক পাঁচ হাজার ২১০ টাকা হলেও পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হিসাব করে দুই লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বন বিভাগ জানায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।

সংখ্যায় প্রভাব ও আর্থিক নিরূপণ

বিবরণ সংখ্যা/মূল্য
মোট নিহত পাখি ২৯
তিলা ঘুঘু ২৪
চড়ুই
কবুতর
আনুমানিক বাজারমূল্য ৫,২১০ টাকা
পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র ক্ষতির হিসাব ২ লাখ ৫,৫০০ টাকা

পরিস্থিতি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয়রা বলছেন, বীজে বিষ মিশিয়ে ছড়িয়ে দিলে শুধু ওই পাখিরাই নয়—জমিতে থাকা অন্য প্রাণী, মাটির উর্বরতা ও ভবিষ্যৎ ফলনেও প্রভাব পড়তে পারে। কৃষক ও এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, বিষ প্রয়োগ বন্ধ না হলে তা কৃষিজমি ও পরিবেশের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের অভিযান চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বন বিভাগ আরও জানিয়েছে যে, বন্যপ্রাণীর অবৈধ শিকার ও নির্ধারিত পরিবেশবিধি লঙ্ঘন রোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কীভাবে প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যে

  • বিষযুক্ত বীজ থেকে পাখি ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীরা দ্রুত আক্রান্ত হয়ে মরে যেতে পারে, যা স্থানীয় খাদ্যচক্রকে বিঘ্নিত করে।
  • নিষিদ্ধ রাসায়নিক উপকরণ প্রয়োগ হলে মাটির ক্ষতিকর পরিবর্তন হতে পারে, ফলে ফসলের উর্বরতা কমে যেতে পারে।
  • প্রতিশোধমূলক বা অনিচ্ছাকৃতভাবে অধিক মাত্রায় বিষ প্রয়োগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিবেশগত ঘটনার প্রাথমিক কারণ হতে পারে।

চুয়াডাঙ্গার বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ বা দন্ডনীয় ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে—এমনই জানিয়েছে বিভাগ। স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশপ্রেমীরা বলেন, এই ঘটনায় সতর্কতা বাড়ানো প্রয়োজন যাতে ভোক্তা ও পরিবেশ উভয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

56চুয়াডাঙ্গা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো চুয়াডাঙ্গা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব