চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার এক গ্রামের নবম শ্রেণির কিশোর নাঈম উদ্দিন (১৪) শনিবার (২২ আগস্ট) বাড়ির সামনে খেলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর সোমবার (২৪ আগস্ট) পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৫) যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে রাজশাহী থেকে উদ্ধার করে আন্দোলনকারী হিসেবে সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে।
নাঈম দর্শনার প্রতাপপুর (দক্ষিণ পাড়া) গ্রামের মো: গাফফারের ছেলে এবং তিনি মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের প্রদত্ত বিবরণ অনুযায়ী শনিবার বেলা প্রায় ১১টা-র দিকে সচরাচর রাস্তায় খেলতে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফিরেনি। সন্ধান না মেলার পর বাবার পরামর্শে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন এবং একইদিন দর্শনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন সকালে অপহরণকারীরা নাঈমের বড়ভাই মাসুদের কাছে কিশোরের ছবি পাঠায়। ছবিগুলোতে নাঈমের মুখে টেপ প্যাচানো ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। এরপর অপহরণকারীরা নাঈমকে মুক্তিপণ দেওয়ার শর্তে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দাবি করে এবং টাকা না পেলে হত্যা করার হুমকিও দেয়—এ তথ্য পরিবারের করা এজাহারে উল্লেখ আছে।
অভিযান ও গ্রেফতার
পরিবার পুলিশকে জানালে দর্শনা থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলার পর দর্শনা থানা ও র্যাব-৫ রাজশাহী সদর কোম্পানির যৌথ অভিযান পরিচালনা করে রোববার নয়—সোমবার রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে নাঈমকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে কিশোরকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং উদ্ধার শেষে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আটক দুইজনের পরিচয় ধার্য করা হয়েছে: রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানার আলীগঞ্জ এলাকার মো. রুবেল (৩৭) ও গোদাগাড়ী থানার এলাকার মো. সুমন (৩৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা অপহরণের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
“র্যাবের সহযোগিতায় অপহৃত কিশোরকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের দর্শনা থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে,”
এই বক্তব্যটি দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন। ওসি জানান, কিশোরকে কোথা থেকে রাজশাহীতে নেওয়া হয়েছিল, তাকে আটকে রাখার সাথে কারা জড়িত এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে আরও কেউ জড়িত কিনা—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে আরও কাউকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ঘটনার টাইলাইন
| তারিখ/সময় | ঘটনা |
|---|---|
| ২২ আগস্ট, প্রায় ১১টা | নাঈম বাড়ির সামনে খেলতে বের হন; পরে নিখোঁজ |
| ২২ আগস্ট, সন্ধ্যাবেলা | পরিবার দর্শনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন |
| ২৩ আগস্ট, সকাল | নাঈমের ছবি পাঠায় অপহরণকারীরা; মুক্তিপণ দাবি করা হয় |
| ২৪ আগস্ট | রাজশাহী থেকে নাঈম উদ্ধার; রুবেল ও সুমনকে আটক |
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
স্থানীয়রা এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একটি গ্রামবাসীর মতে, ছোট ছেলেদের নিরাপত্তা এবং বাড়ির আশপাশে তৎপরতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, তারা দ্রুত ও শিশু নিঃশর্তে ফিরিয়ে পেলে স্বস্তি পেয়েছে, তবে ঘটনার পেছনের মূল উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা জানার জন্য আশা করছে ন্যায়বিচার হবে।
- প্রাথমিক তথ্য: অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি
- উদ্ধারকৃত: নাঈম উদ্দিন (১৪), নবম শ্রেণির ছাত্র
- আটক: মো. রুবেল (৩৭) ও মো. সুমন (৩৫)
দর্শনা থানা ও র্যাব-৫ এই ঘটনায় যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কেউ থাকলেও তাদের খুঁজে আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে শিশুভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশনা আসবে কি না—তাও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে গ্রহণকৃত আইনি পদক্ষেপ ও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে থানার পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।