অর্থনীতি চুয়াডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গা (56)

চুয়াডাঙ্গায় মাছের আঁইশ ব্যবসা: বাড়ছে আয়, রপ্তানি দিয়ে ঢুকছে বৈদেশিক মুদ্রা

একসময় বর্জ্য মনে করা হত মাছের আঁইশ—এখন তা চুয়াডাঙ্গার অনেক মানুষের অতিরিক্ত আয়ের উৎস। সেগুলো সংগ্রহ, শুকিয়ে ও বিক্রির মাধ্যমে স্থানীয়রা স্বাবলম্বী হচ্ছেন এবং কিছু পরিমাণ বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গায় মাছের আঁইশ ব্যবসা: বাড়ছে আয়, রপ্তানি দিয়ে ঢুকছে বৈদেশিক মুদ্রা
©অলংকরণ নাজনীন সুলতানা / we-news.com

নতুন ব্যবসা, বাড়তি উপার্জন

মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় যে অংশটিকে অতীড়ে ত্যাগ করা হত—মাছের আঁইশ—তাকে বর্তমানে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা মৎস্য অফিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আঁইশ সংগ্রহ, পরিষ্কার, রোদে শুকানো ও বিক্রির মাধ্যমে বহু নারী-পুরুষের বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা হয়েছে।

স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেকই আঁইশ আলাদা করে জমিয়ে রাখছেন; পরে তা পাইকারিদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এই উপজাত অংশ সরাসরি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে—জাপান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়া-র মতো দেশে পাঠানো হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

কারবার কিভাবে চলছে

আঁইশ সংগ্রহের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সরল: মাছ কাটার সময় আলাদা করে আঁইশ সংগ্রহ করা হয়, তা ধুয়ে পরিষ্কার করে রোদে শুকানো হয় এবং পরে পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে চালান করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সাধারণত বছরে দুই থেকে তিনবার একত্রে বিক্রি করেন।

  • প্রতি মণ আঁইশের মূল্য: স্থানীয়ভাবে ২,০০০–৪,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
  • স্থানীয় আয়: মাছ কাটাকে পেশা হিসেবে নিয়োজিতরা মাসে অতিরিক্ত ৩,০০০–৪,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।
  • রপ্তানি গন্তব্য: জাপান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ইত্যাদি।

স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা

চুয়াডাঙ্গা জিনতলা পাড়ার সাইফুল ইসলাম নামের এক মাছ কাটান জানান, তিনি প্রতিদিন ফুটানো মাছ কাটার পর প্রায় ১৫–২০ কেজি আঁইশ সংগ্রহ করেন, যা বিক্রি করে মাসে কয়েক হাজার টাকা আয় হয়।

“প্রতিদিন প্রায় ১৫-২০ কেজি আঁইশ হয়। এগুলো বিক্রি করে মাসে ৩-৪ হাজার টাকা বাড়তি আয় হয়। এর আগে মাছের আঁইশগুলো আমি ফেলে দিতাম, কিন্তু এখন সেগুলো বাড়তি আয়ের একটি অংশ।”

আরেক পেশাজীবী শরীফ উদ্দীন বলছেন, তিনি প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাছ কাটেন এবং আঁইশ বিক্রি থেকে ভালো দামে উপকৃত হচ্ছেন কারণ তা বিদেশেও যাচ্ছে। দর্শনা বাসস্ট্যান্ড এলাকার শুকুর আলীও একই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন—আগে আঁইশ ফেলা হত, এখন তা জমিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

অভিজ্ঞতা থেকে শেখা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

আঁইশ ব্যবসা স্থানীয়দের জন্য নতুন আয় সৃষ্টি করলেও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। পরিষ্কার-শুকানোর সঠিক পদ্ধতি, সংরক্ষণ ও পাইকারী বাজারের সঙ্গে স্থায়ী সংযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তাছাড়া মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা না হলে রপ্তানি স্থিতিশীল থাকে না। স্থানীয় ও জেলা মৎস্য অফিসের সাথে ব্যবসায়ীদের সমন্বয় বৃদ্ধি পেলে এই সেক্টরের উন্নতি দ্রুততর হবে।

অর্থনৈতিক প্রভাব

যদিও আঁইশ এককভাবে বৃহৎ আকারের শিল্প নয়, তবু বৈদেশিক বাজারে বিক্রি হলে সামষ্টিকভাবে তা বৈদেশিক মুদ্রা আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য এটি অনুকূল আয়-উপায় হিসেবে কাজ করছে।

বিষয় তথ্য
প্রতি মণ মূল্য ২,০০০–৪,০০০ টাকা (স্থানীয বাজার)
দৈনিক আঁইশ উৎপাদন (কিছু পেশাজীবীর উদাহরণ) ১৫–২০ কেজি
মাসিক অতিরিক্ত আয় (উক্ত পেশাজীবীরা) ৩,০০০–৪,০০০ টাকা

নজরদারি ও পরামর্শ

চুয়াডাঙ্গা জেলা মৎস্য অফিস ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় আঁইশ শিল্প ক্ষুদ্র পর্যায়ে হলেও সম্প্রসারণ যোগ্য। যথাযথ প্রশিক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ ও বাজারসংযোগ করার মাধ্যমে স্থানীয়রা অধিকভাবে উপকৃত হতে পারে।

এবং প্রধানত, যেসব মানুষ আগে বর্জ্য দূর করতেন, এখন তাঁদের ব্যবস্থাপনা দুর্দান্ত হলে একই উপাদান থেকে পর্যাপ্ত আয় করে পরিবার-ভিত্তিক জীবিকা উন্নত করা সম্ভব—এটাই এখানকার প্রধান শিক্ষা।

নাজনীন সুলতানা
নাজনীন এআই অর্থনীতি সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি নাজনীন, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

56চুয়াডাঙ্গা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো চুয়াডাঙ্গা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব